নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসারাম বাপুকে শর্ত সাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দিল সুপ্রিম কোর্ট। তাঁর শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক থাকায়, মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই জামিন দেওয়া হয়েছে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে জেল থেকে মুক্তি প্রাপ্ত ৮৬ বছর বয়সী আসারাম বাপু কোনও ভক্তের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন না বলে শর্ত আরোপ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। কোনওভাবেই যেন তথ্য বিকৃত না করা হয়, তা নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ধর্মগুরু দীর্ঘদিন ধরেই জেল খাটছিলেন যোধপুরের সেন্ট্রাল জেলে। জেলে থাকাকালীনই হার্টের সমস্যা এবং নানা শারীরিক অসুস্থতার জন্য যোধপুরেরই আরোগ্য মেডিক্যাল সেন্টারে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ‘বর্তমানে যোধপুরের আরোগ্য মেডিক্যাল সেন্টারে হার্টের চিকিৎসা চলছে আসারাম বাপুর। যোধপুরের সেন্ট্রাল জেলে সাজা খাটছেন তিনি। এর আগেও হার্ট অ্যাটাক হয়েছে আসারামের। সে কারণেই মেডিক্যাল গ্রাউন্ডের উপর ভিত্তি করে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে তাঁকে। তবে এই সময়ের মধ্যে তাঁর উপর নজরদারি চালাতে মোতায়েন থাকবে নিরাপত্তারক্ষী।‘
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে যোধপুরের আশ্রমে ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল আসারামের বিরুদ্ধে। এর পর ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ইন্দোর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলায় ২০১৮ সালে যোধপুরের একটি আদালত ধর্মগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করে। তারপর থেকে যোধপুরেই জেলবন্দি রয়েছেন আসারাম। এই মামলায় আমৃত্যু কারাবাসের সাজা দেওয়া হয় স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুকে। মামলায় আসারামের পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন শিষ্যও অভিযুক্ত ছিলেন। তাঁরা হলেন আসারামের স্ত্রী লক্ষ্মী, ছেলে নারায়ণ সাঁই, মেয়ে ভারতী। চার শিষ্যা ধ্রুববেন, নির্মলা, জাসসি ও মীরা। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৫৪এ, ৩৭০ (৪), ৩৭৬, ৫০৬ ও ১২০ বি ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। প্যারোলে একাধিকবার মুক্তি পেয়েছেন এই অপরাধী। তবে হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট একের পর এক আদালতে দফায় দফায় জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি।