নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল সেনাবাহিনী এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির মধ্যে গভীর সম্পর্ক। সম্প্রতি, সিন্ধু প্রদেশের মাতলি এলাকায় অজ্ঞাত আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছে লস্কর-ই-তৈবা সন্ত্রাসী রাজাউল্লাহ নিজামনী ওরফে সাইফুল্লাহ। এই ঘটনার পর পাকিস্তানে যে চেহারা দেখা গিয়েছে, তা আবারও সন্ত্রাসী-সেনা জোটকে বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করেছে।
সাইফুল্লাহর মৃত্যুতে পাকিস্তান মারকাজ মুসলিম লিগের (পিএমএমএল) সিন্ধু ইউনিট একটি শোক সভার আয়োজন করে। এটি হাফিজ সঈদের ছেলে তালহা সঈদের দল। এই বৈঠকে একদিকে সন্ত্রাসী সাইফুল্লাহর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করা হয়, অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা হয়।
শুধু তাই নয়, এই সমাবেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী, মেজর জেনারেল থেকে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রকাশ্যে ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। শোকসভার নামকরণ করা হয়েছিল ‘মার্কা-এ-হক’।
পিএমএমএল হল সেই একই দল যার টিকিটে তালহা সঈদ লাহোর থেকে জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও তালহা এবং তাঁর দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে হেরে গিয়েছেন, তবুও পাকিস্তানের সন্ত্রাসী রাজনীতিতে এই দলের ভূমিকা এখনও গুরুত্বপূর্ণ।
পিএমএমএলের বেশিরভাগ সদস্য লস্কর-ই-তৈবা এবং জামাত-উদ-দাওয়ার মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। শুধু তাই নয়, এদের অনেকেই ২০১৭ সালে হাফিজ সঈদের গঠিত দল মিল্লি মুসলিম লিগের সদস্যও ছিলেন।
এই শোকসভায় যেভাবে সাইফুল্লার মতো সন্ত্রাসীর মৃত্যুকে শহিদ হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করা হয়, তাতে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে চলেছে।
সেনাবাহিনী এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যে সম্পর্ক উন্মোচিত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। কিন্তু প্রতিবারই পাকিস্তানের সরকার এবং সেনাবাহিনী নিজেদেরকে ‘পরিচ্ছন্ন’ হিসেবে তুলে ধরার ব্যর্থ চেষ্টা করে।
প্রসঙ্গত, রবিবার অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা সাইফুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে। সে লস্করের নেপাল মডিউলের দায়িত্বে ছিল। পাকিস্তানে থাকাকালীন লস্করে নিয়োগের কাজ দেখাশোনা করত সাইফুল্লা। ভারতে অন্তত তিনটি হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল সে।