নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন নিয়ে উত্তাল গোটা বাংলা। রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে কোণঠাসা করতে নির্যাতিতার মর্মান্তিক মৃত্যুকে হাতিয়ার করে সমাজমাধ্যমে বিপ্লবের ঝড় তুলেছে আগমার্কা সিপিএমপন্থী হিসাবে পরিচিত তথাকথিত নেটা নাগরিকরা। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি চরিতার্থ করতে অনেকেই নির্যাতিতা চিকিৎসকের ছবি, নানা ভিডিও ও নাম প্রকাশ করে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বিপ্লব করছেন। আর নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের নাম ও ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট। আজ মঙ্গলবার আরজি কর কাণ্ড নিয়ে শুনানির সময়েই প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পাদরিওয়ালা ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ অবিলম্বে সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম থেকে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের নাম ও ছবি সরানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এদিন মামলার শুনানি চলার সময়েই দুই আইনজীবী প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিয়ম ভেঙে অনেকেই সমাজমাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের ছবি ও নাম প্রকাশ করে চলেছে। এই আদালতই নিপুন সাক্সেনা মামলায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির মামলায় নির্যাতিতা কিংবা তার পরিবারের কোনও সদস্যের নাম-ছবি প্রচার করা যাবে না। অথচ আরজি কর কাণ্ডে সেই রায় সম্পূর্ণ লঙ্ঘিত হয়েছে। এর ফলে সামাজিকভাবে নির্যাতিতার পরিবারকে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে।’ এর পরেই প্রধান বিচারপতি আবেদনকারী আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এ বিষয়ে কী বলছে? জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নির্যাতিতার নাম প্রকাশ করা যাবে না।’
ওই কথা শুনেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ‘আরজি কর কাণ্ডে বিভিন্ন সমাজমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে নির্যাতিতার নাম বা ছবি প্রকাশ হয়েছে তা অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে। ভবিষ্যতে কোনও ছবি, ভিডিও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কপি প্রকাশ করা যাবে না।’ উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে নিহত তরুণী চিকিৎসকের নাম-পরিচয় ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। বিবৃতি দেওয়ার সময় তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশের আনার অভিযোগে সন্দীপের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে কলকাতা পুলিশ।