নিজস্ব প্রতিনিধি: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) আইপিএল শিরোপা জয় উদযাপনে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ সমর্থক। ওই ঘটনার দায় আরসিবি কর্তৃপক্ষের কাঁধেই চাপাল কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। পদপিষ্টের ঘটনায় সাসপেন্ড হওয়া বেঙ্গালুরুর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিকাশ কুমার বিকাশের দায়ের করা আর্জির শুনানিতে ক্যাটের বিচারপতি বলেন, ‘পুলিশ কোনও জাদুগর বা ভগবান নয়। ৪ জুন যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটছে তার দায় সম্পূর্ণই আরসিবি কর্তৃপক্ষের। আগাম প্রস্তুতি ছাড়াই জয় উদযাপনের ঘোষণা করা হয়েছিল। পুলিশের কাছে আগাম অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেনি।’ চিন্নাস্বামীর বাইরে পদপিষ্টের ঘটনায় শুধু আরসিবিকে দায়ী করেনি ট্রাইব্যুনাল। বিকাশ কুমার বিকাশের সাসপেনশনও প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।
গত ৩ জুন আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে পঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে প্রথম বারের মতো আইপিএল শিরোপা জিতে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দীর্ঘ ১৭ বছর বাদে আইপিএল শিরোপা জয় উপলক্ষে পরের দিন ৪ জুন চিননাস্বামী স্টেডিয়ামে বিরাট কোহলিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। ওই সংবর্ধনা সভা চাক্ষুস করতে গিয়ে ভিড়ের চাপে প্রাণ হারান ১১ জন। আহত হন আরও শতাধিক। ওই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে গোটা দেশেই শোরগোল পড়ে যায়। চাপে পড়ে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করে। ওই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
রাজ্য সরকারের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হন বেঙ্গালুরুর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিকাশ কুমার বিকাশ। মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতেই পদপিষ্টের ঘটনার জন্য আরসিবিকে দায়ী করেছে ট্রাইব্যুনাল। পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছে, তিন থেকে পাঁচ লক্ষ মানুষের জমায়েতের পুরো দায় আরসিবির। তারা পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেয়নি। হঠাৎ করে সমাজমাধ্যমে এই উৎসবের কথা ঘোষণা করে দিয়েছিল তারা। এত কম সময়ে, মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশের পক্ষে সব বন্দোবস্ত করা কোনও ভাবেই সম্ভব ছিল না।’