নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গোটা দেশে ক্ষোভে ফুঁসছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখার পাশে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।
চলতি বছর জম্মু ও কাশ্মীরে তিনবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে পাঁচজন সন্ত্রাসী নিহত হয়।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) ৪২টি সন্ত্রাসী লঞ্চ প্যাড সক্রিয় রয়েছে। এই লঞ্চ প্যাডে ১১০ থেকে ১৩০ জন সন্ত্রাসী উপস্থিত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকায় ৭০ থেকে ৭৫ জন সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে। জম্মুর রাজৌরিতে ৬০ থেকে ৬৫ জন সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে। এই সব সন্ত্রাসী পাকিস্তানি।
পাকিস্তান এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলিতে মাত্র চারজন স্থানীয় যুবককে নিয়োগ করেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী প্রতি পঞ্চম দিনে একজন করে সন্ত্রাসীকে হত্যা করছে। এখনও পর্যন্ত নিহত ৭৫ জন সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই বিদেশী। এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমানা থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে এবং ২৬ জন এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, জম্মু, উধমপুর, কাঠুয়া, ডোডা এবং রাজৌরি এই পাঁচটি জেলায় ৪২ জন স্থানীয় নয় এমন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। উপত্যকার কথা বলতে গেলে, বারামুল্লা, বান্দিপোরা, কুপওয়ারা এবং কুলগাম জেলায় বিদেশী সন্ত্রাসীদের হত্যা করা হয়েছে।
জম্মু ও কাশ্মীরের ৯টি জেলার মধ্যে বারামুল্লায় সর্বাধিক সংখ্যক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। বারামুল্লায়, উরি সেক্টরের সাবুরা নাল্লা এলাকায় বেশিরভাগ বিদেশী সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। বারামুল্লার চক ট্যাপার এবং হান্ডিপোরা এলাকায় কয়েকজনকে হত্যা করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলিই প্রমাণ যে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে এখন কেবল পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরাই সক্রিয়।
মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় এখনও পর্যন্ত ২৮ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। এই আক্রমণ পাহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় করা হয়েছিল। সেখানে বেছে বেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।