নিজস্ব প্রতিনিধি: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার “নিরপেক্ষ” তদন্তের প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। তিনি এদিন অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে পাকিস্তান প্রথমে মানতেই চায়নি এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের যুক্ত থাকার কথা, বরং ভারতকে দোষারোপ করেছিল সেই নাকি এখন এই কথা বলছে।
শাহবাজ শরিএররীফের মন্তব্যের নিন্দা করে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “তারা (পাকিস্তান) প্রথমে স্বীকারও করেনি যে পহেলগাঁওয়ে কিছু ঘটিয়েছে। বরং ওরাই প্রথম বলেছিল যে ভারত এটি পরিকল্পনা করে করেছে। এখন যখন দেখছি যারা প্রথমে আমাদের দোষারোপ করেছিল তারাই বিবৃতি দিচ্ছে, তখন আর কী বলার। আমি ওদের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। যা ঘটেছে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কখনওই উচিত ছিল না এমন ঘটনা ঘটার।”
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার বলেছেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ জনের হত্যার “নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ” তদন্তকে সমর্থন করছে পাকিস্তান । ডনের খবরে বলা হয়েছে, কাকুলে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পাসিং-আউট কুচকাওয়াজে বক্তৃতা দেওয়ার সময় শাহবাজ শরিফ বলেন: “পহেলগাঁও সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডি এই চিরস্থায়ী দোষারোপের আর একটি উদাহরণ যা অবশ্যই থামাতে হবে। একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রেখে পাকিস্তান যে কোনও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্তে অংশগ্রহণের জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করছে।”
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস পেয়েছে। সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। ভারতে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র। সার্ক ভিসা প্রদান বন্ধ হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানি কূটনীতিকদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাদের দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়ে আটারি সীমান্ত। পিছিয়ে নেই পাকিস্তানও। তারাও বাতিল করেছে সিমলা চুক্তি। ভারতীয় নাগরিক, কূটনীতিবিদদের ভারতে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওয়াঘা বর্ডার।
পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবার একটি ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF) পহেলগাঁও হামলার দায় স্বীকার করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে যে এই হামলার মূল সন্দেহভাজন আদিল আহমেদ থোকার অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ভারতে অনুপ্রবেশ করার আগে পাকিস্তানে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।