নিজস্ব প্রতিনিধি, ছত্তিশগড়: ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছিল ভারত ইতিহাসে। স্বাধীনতার পর ২০২৫ সালে প্রথমবার ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের ২৯টি নকশাল অধ্যুষিত গ্রামে উত্তোলিত হয়েছিল জাতীয় পতাকা। তার মূল্য দিতে হল প্রাণ দিয়ে। ছত্তিশগড়ের কাঁকের জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে স্বাধীনতা দিবসে ভারতীয় পতাকা উত্তোলনের অপরাধে এক ব্যক্তিকে হত্যা করল মাওবাদীরা। নিহত ব্যক্তির নাম মণীশ নুরেতি। তিনি ছোটবেটিয়া থানার সীমানার অন্তর্গত বিনাগুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার সশস্ত্র মাওবাদীদের একটি দল গ্রামে এসে নুরেতি এবং আরও দু’জনকে ধরে নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “তিনজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে মাওবাদীরা একটি ‘জন আদালত’ আয়োজন করে যেখানে নুরেতি নিহত হন। অন্য দুজনকে মারধরের পর ছেড়ে দেওয়া হয়। মাওবাদী উগ্রপন্থীরা একটি পোস্টার লাগিয়ে দাবি করে যে নুরেতি একজন পুলিশের চর। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যে।”কাঁকের জেলার পুলিশ সুপার আই কে এলেসেলা জানিয়েছেন, নুরেতির মৃতদেহ এখনও উদ্ধার করা হয়নি। তিনি আরও জানান যে মৃতের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এলসেলা আরও বলেন, “মাওবাদীরা প্রায়ই বিনাগুন্ডা গ্রামে যাতায়াত করে। গত দেড় বছরে, মাওবাদীরা পুলিশের গুপ্তচর বলে অভিযোগ করে চার থেকে পাঁচজনকে হত্যা করেছে। তবে, নিহতদের কারও সঙ্গে পুলিশের কোনও সম্পর্ক ছিল না।” এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দররাজের বস্তার রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ সুন্দররাজ পি বলেন, “একটি ছোট ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে যেখানে মনীশ নুরেতিকে স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে।” আইজি জোর দিয়ে আরও বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শিশু সহ কিছু কয়েকজন গ্রামবাসী ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা উত্তোলন করছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে ১৫ অগস্ট গ্রামে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য মাওবাদিরা নুরেতি এবং আরও কয়েকজনের উপর অসন্তুষ্ট ছিল।
৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসে নারায়ণপুর জেলায় হোরাডি, গড়পা, কাচ্ছপাল, কোদলিয়ার, কুতুল, বাদেমাকোটি, পদ্মকোট, কান্দুলনার, নেলাঙ্গুর, পাঙ্গুর এবং রায়নারে পতাকা উত্তোলিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলে কেমন লাগে তা এই প্রথম বুঝতে পেরেছিলেন সুকমা, রাইগুডেম, তুমালপাদ, গোলাকুন্ডা, গোমগুদা, মেট্টগুদা, উসকাভায়া এবং মুলকাথং সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। বিজাপুর জেলায়, কোন্ডাপল্লী, জিদাপল্লী, ভাতেবাগু, কারেগুট্টা, পিদিয়া, গুঞ্জেপার্টি, পূজারি, কাঙ্কের, ভীমরাম, কোরচোলি এবং কোটপল্লী পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনটিকে উদযাপন করা হয়েছিল এবার।