নিজস্ব প্রতিনিধি: আগেকার দিনে নিজের রাজ্যের হাল হকিকত জানার জন্য রাজা-মন্ত্রীরা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে বেরিয়ে পড়তেন রাজ্য ভ্রমণে। সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তাঁরা রাজ্যবাসীর সুবিধা-অসুবিধা সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা পেতেন। সেই একই পদ্ধতিতে সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে মিশে গিয়ে তাঁদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হলেন এক জেলাশাসক। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ছত্তিশগড়(Chhattisgarh) রাজ্যে। জেলাশাসকের এদিনের কীর্তি অবাক করেছে সেখানকার সাধারণ মানুষকে।
প্রকৃতপক্ষে, ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার কালেক্টর(District Collector) শ্রী বিলাস ভোস্কর একজন সাধারণ কৃষকের বেশে ধান সংগ্রহ কেন্দ্রে পৌঁছে যান। তাঁর মাথায় বাঁধা ছিল গামছা, এমনকি ট্রাক্টর নিয়ে হাজির হতে দেখা তাঁকে, ফলে প্রথমেই কেউ এই বিষয়টি ধরতে পারেননি। ধান সংগ্রহ কেন্দ্রে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এসডিএম রবি রাহিও। ওই জেলাশাসক পেটলা ধান সংগ্রহ কেন্দ্রে একজন সাধারণ কৃষকের ছদ্মবেশেই ধানের ওজন প্রক্রিয়ার স্টক নেন। এরপর তিনি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন এবং তাঁদের পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানতে চান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই জেলাশাসকের পরিচয় জানতে পারার পরই হতবাক হয়ে যান লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাকি সকলে।
আরও পড়ুনঃ গুটি গুটি পায়ে এক বছর পূর্ণ, খুদে ইয়ালিনির জন্মদিনে কি লিখলেন রাজ-শুভশ্রী?
গত বৃহস্পতিবার এই অভিনব কাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। এরপর তিনি প্রায় এক ঘন্টা ওই ধান সংগ্রহ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এদিন ওই জেলাশাসক কমিটির ম্যানেজারকে নির্দেশ দেন কৃষকদের যেন কোনও রকমের সমস্যায় না পড়তে হয়। কোনও দালাল বা মিডল ম্যানদের কারণে কৃষকরা যেন নিজেদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত না হন। কোনও গাফিলতি ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিন ধান সংগ্রহ কেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি সীতাপুর কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কেও পৌঁছে যান ওই জেলাশাসক। সেখানে সমস্ত কাজ সঠিক নিয়মে পালিত হচ্ছে কিনা তা নিজে তদারকি করেন তিনি। জেলা শাসকের এই মানবিক পদক্ষেপে খুশি সেখানকার স্থানীয় কৃষকরা। আজকের দুর্নীতির বাজারে এই জেলাশাসকই যেন সাধারণ কৃষকদের কাছে দেবদূত।