পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায়: জগতের অধীশ্বর মহাপ্রভু শ্রী জগন্নাথের দারুমূর্তি প্রতি ১২ থেকে ১৯ বছর অন্তর বদলে ফেলা হয়। পুনরায় নতুন নিম কাঠ দিয়ে তৈরি হয় মহাপ্রভুর নতুন মূর্তি। সমগ্র ভারতে আর কোনও মন্দিরের বিগ্রহের ক্ষেত্রে এমন রীতির কথা শোনা যায় না। এই রীতি বিশেষত জগন্নাথের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই রীতিকে বলা হয় নবকলেবর।
এই সময় পুরনো দারুমূর্তি থেকে মহাপ্রভুর ‘ব্রহ্মবস্তু’ নতুন দারুমূর্তিতে স্থানান্তরিত করতে হয়। মনে করা হয়, ওই ব্রহ্মবস্তুই নিম কাঠের তৈরি বিগ্রহের ‘প্রাণ’ বা ‘আত্মা’। পুরীর মন্দিরের প্রাচীন রীতি অনুসারে তা করা হয় কৃষ্ণা চতুর্দশীর মধ্যরাত্রে । জানা যায়, তখন সারা পুরীর সব আলো বন্ধ করে এই মহাকাজ সুসম্পন্ন করা হয়।
অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে পুরনো দারুমূর্তিগুলির কি হয়? সেই মূর্তিগুলির ভাগ্যে কী ঘটে? জেনে রাখা প্রয়োজন, শ্রীমন্দিরের উত্তরদুয়ার অর্থাৎ হস্তী দ্বারের কাছে উত্তর-পশ্চিম দিকে কয়েক ধাপ উঁচু একটি জায়গা আছে। যা প্রায় বিঘে খানেক বিস্তৃত। এই পুণ্যস্থানটি হল কোইলি বৈকুন্ঠ বা কৈবল্য বৈকুন্ঠ। কথিত আছে, এই স্থানেই পাণ্ডবেরা শ্রীকৃষ্ণের পিণ্ডদান করেছিলেন। তাই নবকলেবরের সময় পুরোনো দারুমূর্তিগুলিকে এই কোইলি বৈকুন্ঠেই সমাধি দেওয়া হয়। এই স্থানটি দেখতে অনেকটা ছাদের ওপর বাগান থাকলে যেমন লাগে, ঠিক তেমনই অর্থাৎ, রুফটপ গার্ডেনের মতো। এই গোটা অঞ্চলটি অজস্র গাছ-গাছড়ায়, লতা-গুল্মে পরিপূর্ণ। এখানে বেলগাছ, জুঁইগাছ, ও তুলসীগাছও প্রচুর। প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, বৈকুন্ঠেশ্বর শিব এই কোইলি বৈকুন্ঠকে রক্ষা করেন।