নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশবাসীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চির ঘুমের দেশে চলে গিয়েছেন উদারনীতি ও আর্থিক সংস্কারের জনক তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিল্লির এইমসে রাত নয়টা বেজে ৫১ মিনিটে চিকিৎসকদের যাবতীয় চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন নবতিপর রাজনেতা। আর প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়স্তরে সব উদযাপন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের তরফেও দলের যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত রাখার ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে।
মনমোহন সিংহের কাল প্রয়াণের খবরে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের নেতারা শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ হ্যান্ডলে (পূর্বতন টুইটার)শোকপ্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধি। তিনি লিখেছেন, ‘মনমোহন সিংহ-জি অসীম বুদ্ধিমত্তা নিষ্ঠা সহকারে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর বিনয় ও অর্থশাস্ত্রের প্রতি গভীর পাণ্ডিত্য দেশকে অনুপ্রাণিত করেছে। শ্রীমতি কাউর (মনমোহন সিংহের স্ত্রী) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’ মনমোহন সিংহের মৃত্যুতে যে তিনি গুরু-হারা হয়েছেন তা উল্লেক করে রাহুল লিখেছেন, ‘আমি একজন গুরু ও পথ প্রদর্শককে হারিয়েছি। আমার মতো লক্ষ-লক্ষ মানুষ তাঁকে (মনমোহন সিংহ) সারা জীবন অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করব।’
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ-জির আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে স্তম্ভিত এবং দুঃখিত। আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাঁর পাণ্ডিত্য এবং প্রজ্ঞা ছিল প্রশ্নাতীত। তাঁর হাত ধরে দেশে যে আর্থিক সংস্কার শুরু হয়েছিল তার গভীরতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।’