নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রাজনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বছর ছিল ২০২৪ সাল। কারণ, এবছরেই লোকসভা ভোটের ছ’মাসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় দেশের হাইভোল্টেজ মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্র প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। এরমধ্যে তিনটি রাজ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে ফেলে গেরুয়া শিবির । আর বাকি একটি রাজ্য গেছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের দখলে ।
মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস-শিবসেনা (ইউবিটি)-এনসিপি-র (শরদ) ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’কে ধরাশায়ী করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি-শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে) এবং এনসিপির (অজিত) জোট ‘মহাজুটি’। তারা জেতে ১৩২টি আসনে । আবার ঝাড়খণ্ডে অঙ্ক কষে জেএমএমে ভাঙন ধরিয়ে চম্পই সোরেনকে দলে টেনে নিয়েছিল গেরুয়া শিবির। তবে কোন লাভ হয়নি। উল্টে কংগ্রেস-আরজেডি-নকশালপন্থীদের সঙ্গে নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাঁচীর কুর্সি পুনর্দখল করে ফের মুখ্যমন্ত্রী আসনে বসেন হেমন্ত সোরেন।
অন্যদিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে হরিয়ানায় ঐতিহাসিক তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করছে বিজেপি। ৯০টি আসনের মধ্যে পদ্মশিবিরের প্রাপ্ত আসন ছিল ৪৮। আর কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ৩৭টি আসনে। পাশাপাশি অন্ধ্রের নির্বাচনে এ বার অন্যতম ‘ফ্যাক্টর’ ছিল বেকারত্ব। এই আবহে অন্ধ্রপ্রদেশের ২৫টি লোকসভা আসনের ১৭৫টি বিধানসভায় এক দফায় ভোট হয়েছিল গত ১৩ মে। সেখানে ওয়াইএসআরসিপি-কে হারাতে বিজেপি এবং জেএনপির সঙ্গে জোট করেছিল চন্দ্রবাবুর টিডিপি। আর তাতেই পাঁচ বছর পর আবারও অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্সিতে ফেরা নিশ্চিত করেন চন্দ্রবাবু নাইডু। বলা বাহুল্য, ২০১৯ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চন্দ্রবাবুর দলকে ফেলে সরকার গড়েছিলেন জগন্মোহন রেড্ডি মুখ্যমন্ত্রী হন। কিন্তু পাঁচ বছরের মধ্যেই অন্ধ্রের মানুষ আবার সরকার বদলে ফেলে । এখান থেকেই স্পষ্ট যে ২০২৪ সালে লোকসভার সঙ্গে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্র প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনের বদলে গিয়েছে গোটা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ।