নিজস্ব প্রতিনিধিঃ প্রায় প্রতিটি জনসভাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখে ছিল ‘ অব কি বার ৪০০ পার’ স্লোগান। প্রধানমন্ত্রীর মতো অন্য বিজেপি নেতারাও সেই ধ্বনি তুলছিলেন সভা থেকে রোড-শোয়েতে। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই একেরবারে বদলে গেল পাশা। ৩০০ –র গণ্ডি ও পার করতে পারেনি বিজেপি। মাত্র ২৪০টি আসন গেরুয়া শিবির জয়ী হয়। আর তাতেই সরকার গড়তে মোদি -শাহকে তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ-র অন্য শরিকদের দিকে।
বলা বাহুল্য , অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নায়ডুর দল তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং নীতীশ কুমারের দল জেডিইউ যদি বিজেপির সঙ্গে একজোট না হত তাহলে দেশের প্রধানমন্ত্রী আসনে নরেন্দ্র মোদির বসা নিয়েও থাকত প্রশ্ন। অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে বিজেপিকে হাটাতে এক জোট হয়েছিল বিরোধীরা । আনুমানিক ২৬- ২৭ টি দল নিয়ে তৈরি হয়েছিল ইন্ডিয়া জোট। তাদের মূল টার্গেট ছিল ‘ বিজেপি হাঁটাও’। তবে সেই লক্ষ্য কিছুটা হলেও পূরণ করতে পেরেছে বিরোধী জোট। তারা একসঙ্গে লড়াই করে ২০১ টি আসনে জয়ী হয়।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখলে একটা চিত্র স্পষ্ট যে , দিন দিন দেশে ফিকে হচ্ছে ‘মোদি ম্যাজিক’। কারণ , ২০২৪ সালে নির্বাচনে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজের কেন্দ্র বারাণসীতেই জয়ের মার্জিন কমেছে ৬৮ শতাংশ । সেইসঙ্গে পোস্টার ব্যালটের গণনায় দেখা গিয়েছিল অজয় রাইয়ের থেকে এক লাখেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের গড়ে জয়ী হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু হু হু করে কমেছিল জয়ের ব্যবধান। এই চিত্র সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, নিজেদের দলীয় নেতাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই বিজেপির এই অবস্থা হচ্ছে।