নিজস্ব প্রতিনিধি, আহমেদাবাদ: আহমেদাবাদে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৪১ জন যাত্রী এবং ক্রু সদস্যের মধ্যে রয়েছেন কেরলের পাঠানমথিত্তা জেলার তিরুভাল্লার বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী নার্স রঞ্জিতা গোপাকুমারও ছিলেন।
দুই সন্তানের জননী রঞ্জিতা লন্ডনে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাত্র চার দিন আগে ভারতে আসেন। রঞ্জিতার ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, তিনি এখানে এসেছিলেন পুনরায় চাকরি শুরু করার আশা করেছিলেন। লন্ডনে আর থাকতে চাইছিলেন না রঞ্জিতা।
তিনি ব্রিটেনে চাকরি ছেড়ে ভারতে পুনরায় চাকরিতে যোগদানের পরিকল্পনা করছিলেন। লন্ডনে যাওয়ার আগে ওমানের সালালাহতে কিছুদিন কাজ করেছিলেন রঞ্জিতা। এরপর বিদেশে আরও ভাল সুযোগের জন্য কেরল সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবা ছেড়ে তিনি লন্ডনে যান।
ভারতে ফিরে রঞ্জিতা ভেবেছিলেন নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শেষ করবেন। তারপর সেই বাড়িতে বৃদ্ধ মা এবং সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জীবনযাপন করবেন। ভারতেই করবেন চাকরি। রঞ্জিতার পরিচিত ও আত্মীয়রা জানিয়েছেন, অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে। ছিল নানা পরিকল্পনা।
সে’সব কিছুই আর সফল হল না। বিমান দুর্ঘটনায় সব শেষ। রঞ্জিতা রেখে গেলেন মা থুলাসিকুট্টিয়াম্মা, দুই ভাই এবং দুই সন্তান ১৫ বছর বয়সী ইন্ধুচুদন ও ১২ বছর বয়সী ইথিকাকে। ইন্ধুচুদন দশম শ্রেণির ছাত্রী, ইথিকা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। রিলিজ লেটার নেওয়ার জন্যই আবার ব্রিটেন যাচ্ছিলেন রঞ্জিতা গোপাকুমার।
১২ জুন গোটার বিশ্বের জন্য হয়ে রইল এক কালো দিন। এই দিনেই গুজরাতের আহমেদাবাদে বি জে মেডিক্যাল কলেজের একটি হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়েছিল ১১ বছরের পুরনো একটি ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বোয়িং বিমান। বিমানটিতে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি মজুত ছিল। ভেঙে পড়ার পরেই বোয়িংয়ে আগুন ধরে যায়। ১ জন বাদে বিমান এ থাকা সকল যাত্রী, দুই পাইলট, ও ক্রু সদস্যরা মারা যান এই দুর্ঘটনায়। উড়ানের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ডাক্তারি পড়ুয়াদের হোস্টেলের উপর ভেঙে পড়ে বিমানটি।