নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হত্যালীলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। ধর্মীয় পরিচয় জিজ্ঞাসা করে বেছে বেছে শুধু হিন্দুদের খুন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন বেঙ্গালুরুর ভারত ভূষণ। তিনি পেশায় একজন প্রযুক্তি কর্মী। ভারত ভূষণকে স্ত্রী এবং তিন বছরের শিশুপুত্রের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। হতভাগ্য মৃত ব্যক্তির শাশুড়ি জানিয়েছেন সন্ত্রাসীরা সকলকে শুধু জিজ্ঞাসা করে তাঁরা হিন্দু কিনা। তারপরেই শুরু হয় গুলি চালনা এবং ততক্ষণ চলতে থাকে যখন না মানুষগুলি মাটিতে পড়ে যায়।
ভারত ভূষণের শোকস্তব্ধ শাশুড়ির কথায়, “ওরা জিজ্ঞাসা করেছিল সবাইকে যে তারা হিন্দু কিনা। তারপর আমার জামাইকে গুলি করে। মহিলা এবং শিশুদের ওরা গুলি করেনি। শুধু পুরুষদের মাথায় গুলি করে। ততক্ষণ গুলি চালিয়ে যেতে থাকে যতক্ষণ না তারা পড়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ে একজন ডাক্তার, তাই সে বুঝতে পেরেছিল জামাই আর নেই। তারপর কোনওরকমে মোবাইল এবং পার্স নিয়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়। আমরা দুপুর ২.৪৫ মিনিটে ওর সাথে কথা বলেছিলাম।”
অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোরের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী পারিবারিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করতেন। তারা বেঙ্গালুরুর মাত্তিকেরে এলাকায় থাকতেন। স্ত্রী সুজাতা ও ছেলের সঙ্গে ছুটি কাটাতে কাশ্মীর গিয়েছিলেন।
বেঙ্গালুরু দক্ষিণের সাংসদ তেজস্বী সূর্য মঙ্গলবার রাতে বলেছেন যে সুজাতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অনন্তনাগে তাঁদের নিরাপদ থাকার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তেজস্বী সূর্য X হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “এইমাত্র বেঙ্গালুরুর মাত্তিকেরের বাসিন্দা সুজাতার সাথে কথা হয়েছে। আজ সকালে সন্ত্রাসী হামলায় তাঁর স্বামী ভারত ভূষণকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এবং তার ৩ বছরের ছেলে বেঁচে গিয়েছেন।”
কর্ণাটকের শিবমোগ্গার আরেক রিয়েলটর মঞ্জুনাথ রাও নামে এক পর্যটকও পহেলগাঁও হামলায় নিহত হয়েছেন। তিনিও তার স্ত্রী ও ছেলের সাথে ছুটি কাটাতে কাশ্মীর গিয়েছিলেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক সপ্তাহ আগে বিবাহিত নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা, এক গোয়েন্দা ব্যুরোর আধিকারিক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং নেপালের দুই বিদেশী এবং দুই স্থানীয়-ও রয়েছেন।
সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার জন্য ব্যাপক তল্লাশি শুরু করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আজ হামলায় জড়িত চার সন্ত্রাসীর একটি ছবি প্রকাশ করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এরা সকলেই লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) এর সাথে যুক্ত। দুজন নিঃসন্দেহে পাকিস্তানি। নিষিদ্ধ পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি ছায়া গোষ্ঠী ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ) এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।