নিজস্ব প্রতিনিধি, রোহতক: পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে জনপ্রিয় ভ্রমণ ব্লগার এবং ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। তাকে দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। জ্যোতি ‘ট্র্যাভেল উইথ জো’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালাতো। পাকিস্তান ভ্রমণকালে সে আইএসআই-এর এজেন্টদের সংস্পর্শে এসেছিল। নিজ মুখে একথা স্বীকারও করে নিয়েছে জ্যোতি।
যাই হোক, ঘর শত্রু বিভীষণের সবথেকে অবাক করা ব্যাপার হল জ্যোতি রানি মালহোত্রার পাকিস্তানের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। সূত্রের খবর, দেশভাগের আগে জ্যোতির পরিবার পাকিস্তানের মুলতান এবং ভাওয়ালপুর শহরে বাস করতেন। জ্যোতির ঠাকুরদা মুলতানের এবং ঠাকুরমা ভাওয়ালপুরের বাসিন্দা ছিলেন। দেশভাগের সময় তার পরিবার ভারতে চলে আসে।
হিসার পুলিশ বর্তমানে জ্যোতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। সন্দেহ করা হচ্ছে যে জ্যোতির কাছে বিদেশ থেকে টাকা আসত। পুলিশ জ্যোতির তিনটি মোবাইল এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে। সেগুলির ফরেনসিক তদন্ত চলছে। জ্যোতি তিনবার পাকিস্তানে গিয়েছে। সম্প্রতি ঘুরে এসেছে বাংলাদেশ থেকে। জানা গিয়েছে, আবারও বাংলাদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
জ্যোতি পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করত, বিলাসহুল হোটেলে থাকত, ফ্লাইট ছাড়া যাতায়াত কত না। তিনি পাকিস্তানের এমন কিছু এলাকায় ভিডিও শ্যুট করেছিল সে যেখানে সাধারণ নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
করোনাকালে জ্যোতি তার বেসরকারি চাকরি ছেড়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল শুরু করে। পাকিস্তান সম্পর্কে ‘স্বচ্ছ’ ভাবমূর্তি নিয়ে ভিডিও তৈরি করেছিলেন। এই ভিডিওগুলি লক্ষ লক্ষ ভিউ পেতো। একটি ভিডিও ১ কোটি ২০ লক্ষ ভিউ পেয়েছিল। মাত্র দুই বছরে জ্যোতি এক লক্ষ সাবস্ক্রাইবার পেয়েছিল এবং ইউটিউবের সিলভার বাটন পেয়েছিলেন।
এনআইএ, আইবি এবং হরিয়ানা পুলিশ জ্যোতিকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে তার সঙ্গে পাকিস্তানি হাইকমিশনে নিযুক্ত দানিশ নামে একজন কর্মীর যোগাযোগ ছিল। তার সূত্রেই ধীরে ধীরে জ্যোতি আইএসআই আধিকারিকদের সঙ্গে পরিচিত হয়। জ্যোতি সম্ভবত বিপদের গন্ধ পেয়ে দানিশের সঙ্গে চ্যাট মুছে ফেলে। তবে এখন প্রযুক্তি অনেক উন্নত। তাই প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
জ্যোতি কেবল পাকিস্তান বা বাংলাদেশেই যায়নি, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী অঞ্চল যেমন চিকেন নেক শিলিগুড়ি, নদিয়া, ব্যারাকপুর, শ্যাওড়াফুলি, শিয়ালদহ স্টেশন, দক্ষিণেশ্বর মন্দির সহ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ বা নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য এই ভ্রমণ সেরেছিল সে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, জ্যোতি স্বর্ণমন্দির, কাশ্মীরের পর্যটন স্থান এবং সেনা ঘাঁটির ভিডিও তৈরি করেছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলি আইএসআই আধিকারিক আলি হাসানের সঙ্গে চ্যাটিংয়ের ইঙ্গিতও পেয়েছে। টেলিগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিবিধ এনক্রিপ্টেড অ্যাপ্লিকেশনে কথা হত তাদের। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি জ্যোতি কেবল একটি মুখ। এই নেটওয়ার্কে আরও অনেক মুখ রয়েছে যেগুলি আগামী দিনে উন্মোচিত হবে।