নিজস্ব প্রতিনিধি: পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে ২৮ জন নিরীহ মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা দেশ শোকাহত। এমনকি অন্যান্য দেশের নেতারাও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। ঝাড়খণ্ডের বোকারোর বাসিন্দা মহম্মদ নওশাদ নিরীহ পর্যটকদের হত্যায় বেজায় উচ্ছ্বসিত ছিল। তাই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতেই ঘটল বিপদ। হাতে পড়ল হাতকড়া।
এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পর বেশ কয়েকজন শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ ঝাড়খণ্ড পুলিশকে ট্যাগ করে মহম্মদ নওশাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। জবাবে বোকারো পুলিশ বুধবার সকালে ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করে। পুলিশের মতে, মহম্মদ নওশাদের বয়স ৩৫ বছর। বিহারের একটি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষালাভ। নওশাদের এক ভাই দুবাইতে থাকেন। নওশাদ তার বাবার সাথে বোকারোতে থাকেন। জানা গিয়েছে, এই ব্যক্তি অতীতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু উস্কানিমূলক পোস্ট করেছে। দুবাই থেকে ভাইকে দিয়ে সিমকার্ড আনাতো সে। সেই সিমের মাধ্যমেই নওশাদ ফেসবুক, এক্স (পূর্বে টুইটার) এবং ইনস্টাগ্রামে সক্রিয় ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে যে নওশাদ পহেলগাঁওয়ের ঘটনার জন্য সন্ত্রাসীদের অভিনন্দন জানিয়েছে এবং আরও বেশ কিছু উস্কানিমূলক কথা লিখেছেন। X- হ্যান্ডেলে ঊর্দূতে পোস্ট করে ওই ব্যক্তি লিখেছে, “ধন্যবাদ পাকিস্তান, ধন্যবাদ লস্কর-ই-তৈবা। আল্লাহ আপনাদের সর্বদা ভাল রাখুন। আমিন, আমিন। আরএসএস, বিজেপি, বজরং দল এবং মিডিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে আমরা আরও খুশি হব।” নওশাদ তার পোস্টে স্মাইলি ইমোজিও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
নওশাদের বিরুদ্ধে আরও অনেক আপত্তিকর এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের পর, বোকারোর এসপি মনোজ স্বর্গিয়ারি পুলিশের কারিগরি শাখার সাথে সমন্বয় করে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেন। পরিদর্শক নবীন কুমার সিংকে এই দলের প্রধান করা হয়। SIT সারা রাত ধরে নওশাদের খোঁজ চালিয়ে অবশেষে বুধবার সকালে তাকে গ্রেফতার করে।