নিজস্ব প্রতিনিধি : শিশুচুরির সঙ্গে যুক্ত হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা উচিৎ। শিশু পাচার মামলায় বড় রায় দেশের শীর্ষ আদালতের। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, যে সকল হাসপাতালগুলো এই জঘন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারগুলো কঠোর ব্যবস্থা নিন।হাসপাতালে সদ্যোজাত চুরির সব মামলা দ্রুত শেষ করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শীর্ষ আদালতের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়েছে, ৬ মাসের মধ্যে সব মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে নিম্ন আদালতগুলিতে।
উত্তরপ্রদেশের এক শিশু পাচার মামলায় অভিযুক্তদের অন্তর্বর্তী জামিন সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল সুপ্রিমকোর্টে।সেই মামলার শুনানিতেই যোগী সরকারকে রীতিমত তুলোধনা করেছে আদালত। জানা গিয়েছে, বারাণসী এবং তার আশেপাশের হাসপাতালগুলিতে শিশু চুরির মামলায় অভিযুক্তদের ২০২৪ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট জামিন দেয়। তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল শিশুদের পরিবার।আদালতে মামলা চলাকালীন গোটা বিষয়ের দিকে নজর রেখেছে। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং ভারতীয় উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে একটি রিপোর্টও চেয়েছিল। সবকিছু বিচার করেই দোষীদের লাইসেন্স বাতিল করার কথা জানিয়েছে আদালত। পাশাপাশি এলাহাবাদ হাইকোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, “অভিযুক্তেরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর। জামিন দেওয়ার সময় হাইকোর্টের অন্তত উচিত ছিল, অভিযুক্তদের প্রতি সপ্তাহে হাজিরার শর্ত দেওয়া।” পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছে, উত্তরপ্রদেশ সরকার কেন জামিনের বিরুদ্ধে আবেদন করেনি।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সকলকে থানায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। বিচারপতি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মহাদেবনের বেঞ্চের নির্দেশ, আত্মসমর্পণের পরে সকলকে জেলে পাঠাতে হবে।
আদালত তার রায়ে বলেছে, সদ্যোজাত চুরির ঘটনার দেশব্যাপী গ্যাং ছিল। চুরি যাওয়া শিশুরা পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এমনকি রাজস্থান থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে অভিযুক্তরা সমাজের জন্য ক্ষতিকারক।