নিজস্ব প্রতিনিধি, ইসলামাবাদ: পহেলগাঁও হামলার মূল হ্যান্ডলার ছিলেন কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী পাকমদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সঈদ। তদন্ত করে এই তথ্য জানিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সম্প্রতি খবর মিলেছে, পহেলগাঁও হামলায় হাফিজ সঈদের যোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা প্রায় চারগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্ধিত নিরাপত্তার আওতায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর ২৪x৭ সশস্ত্র সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, লাহোরে সঈদের বাসভবনের চারপাশে এখন ব্যাপক নজরদারি ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সঈদ যেখানে থাকেন সেই জায়গাটি কোনও সন্ত্রাসী নেতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ঘনজনবসতিপূর্ণ শহরের মাঝখানে সাধারণ মানুষের মধ্যেই তাঁর বাস। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম কিছু স্যাটেলাইট ছবি এবং ভিডিও হাতে পেয়েছে। তাঁদের সূত্রেই খবর, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী পাকিস্তানে নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে রয়েছেন।
ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশির স্যাটেলাইট ছবিতে তিনটি সম্পত্তি দেখানো হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল হাফিজের বাসভবন, একটি মসজিদ তথা মাদ্রাসা এবং অন্যটি হল হাফিজের জন্য ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা সহ তৈরি নতুন একটি পার্ক।
গোপন আস্তানার ভিডিওগুলিতে দেখা যাচ্ছে যে, পাকিস্তান সরকারের নিরাপত্তার অধীনে ভারতের চরম অপরাধী ওই সন্ত্রাসী দিব্যি আরামদায়ক জীবনযাপন করছেন। অথচ পাক সরকার বারবার দাবি করেছে হাফিজ সইদ কারাগারে রয়েছেন। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্যই তিনি সাজা ভোগ করছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি হাফিজের এই আস্তানাগুলি সম্পর্কে অবগত।
সম্প্রতি পাকিস্তানে হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু কাতালকে হত্যা করা হয়। তার পর থেকেই লস্করের মাথার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আইএসআই, সইদের নিরাপত্তার বিষয়টিও পর্যালোচনা করেছে এবং তাঁর বাসভবনকে একটি সাব-জেলে রূপান্তরিত করা হচ্ছে। ।
এদিকে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে খবর, শীর্ষ লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার ফারুক আহমেদের নেটওয়ার্ক পহেলগাঁওয়ে হামলা চালাতে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসীদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) থাকা আহমেদ, তার স্লিপার সেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গত দু’বছরে কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসী হামলা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।