নিজস্ব প্রতিনিধি, হরিয়ানা: ‘আমি চাইলেও আমার মেয়ের জন্য মামলা লড়তে পারব না’ – কথাগুলি এমন এক বাবার, যার মেয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে এই মুহূর্তে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন ট্রাভেল উইথ জো খ্যাত ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর বাবা হরিশ মালহোত্রা নিজের যন্ত্রণা ব্যক্ত করেছেন সকলের সঙ্গে।
হরিশ মালহোত্রা বলেছেন যে তাঁর সবচেয়ে বড় কষ্ট হল তিনি নিজের মেয়ের জন্য আদালতে লড়তে পারছেন না। কারণ তার কাছে একজন ভাল আইনজীবী নিয়োগ করার মতো টাকাই নেই। তাই তিনি চাইলেও মামলা লড়তে পারবেন না। অশ্রুসজল চোখে জানিয়েছেন জ্যোতির বাবা।
হরিশ বলেন যে জ্যোতি গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি বা তার সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। এমনকি পুলিশ জ্যোতির বাড়ি থেকে যা যা নিয়ে গিয়েছেন, তার কিছুই ফেরত দেওয়া হয়নি। জ্যোতি নিজের কাছে যে ডায়েরি রাখতেন, সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না গুপ্তচরের বাবা। প্রৌঢ় জানিয়েছেন, গত আড়াই বছর মেয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করছেন। জ্যোতি লকডাউনের আগে একটি বেসরকারি চাকরির জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন, কিন্তু মহামারীর পরে বাড়ি ফিরে আসেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুলিশ বলছে যে ভারত-পাক সংঘর্ষের সময়ও জ্যোতি পিআইও (পাকিস্তান ইন্টেলিজেন্স অপারেটিভ)-এর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। জ্যোতির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পুলিশ অপেক্ষা করছে। আশা করা হচ্ছে দু’এক দিনের মধ্যেই রিপোর্ট আসবে। জ্যোতিকে আদালতে তোলার পর আরও চার দিনের বিচারবিভাগীয় রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
জ্যোতি যেসব রাজ্যে গিয়েছিলেন, সেই রাজ্যের পুলিশ হিসার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রয়োজনে অন্যান্য রাজ্যেও অনুসন্ধান করা যেতে পারে। গতকাল পেশ করা রিমান্ডের কাগজপত্রেও পুলিশ খুব সীমিত তথ্য লিপিবদ্ধ করেছে।