নিজস্ব প্রতিনিধি, হরিয়ানা: পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে জনপ্রিয় ভ্রমণ ব্লগার এবং ইউটিউবার জ্যোতি মালহোত্রা। তাকে দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। জ্যোতি ‘ট্র্যাভেল উইথ জো’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালায়। পাকিস্তান ভ্রমণকালে সে আইএসআই-এর এজেন্টদের সংস্পর্শে এসেছিল। এই মামলাটির তদন্ত চালাচ্ছে ন্যাশনাল ইন্টালিজেন্স এজেন্সি, আইবি এবং হরিয়ানা পুলিশের একটি মিলিত দল। বর্তমানে জ্যোতি পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে আছেন।
ইতিমধ্যেই তদন্তকারী সংস্থাগুলি জ্যোতি এবং আইএসআই হ্যান্ডলার আলি হাসানের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খুঁজে পেয়েছে। সেখানে ‘প্রোটোকল’ এবং ‘আন্ডারকভার এজেন্ট’ এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। চ্যাটের একটি জায়গায় আলি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘তুমি যখন আটারি সীমান্তে ছিলে তখন কে প্রোটোকল পেয়েছিল?’ উত্তর জ্যোতি বলে, ‘আমি বুঝতে পারিনি, ওরা এতটাও বোকা ছিল না।’ এই কথোপকথন থেকে গোয়েন্দাদের কাছে স্পষ্ট যে আইএসআই ইউটিউবার জ্যোতিকে ভারতীয় এজেন্টদের সনাক্ত করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছিল।
২০২৩ সালে ৩২৪তম বৈশাখী উৎসবের সময় জ্যোতি মালহোত্রা পাকিস্তান সফর করে। সেখান থেকে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠতে শুরু করে। পাক হাইকমিশনের কর্মকর্তা এহসান দার ওরফে দানিশের সঙ্গেও কথা বলেছিল সে। এই দানিশকেই সম্প্রতি ভারত ‘পার্সোনা নন-গ্রাটা’ ঘোষণা করে দেশ থেকে বহিষ্কার করে। জ্যোতিকে যখন দানিশের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন সে প্রথমে জানায় দানিশ নামে কাউকে চেনে না। কিন্তু জ্যোতির কথার অসংলগ্নতা গোয়েন্দা আধিকারিকদের চোখ এড়ায়নি।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর জ্যোতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে হামলার জন্য ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করে সে। বর্তমানে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি জানার চেষ্টা করছে যে জ্যোতি ইচ্ছাকৃতভাবে আইএসআইকে সাহায্য করেছিলেন নাকি তাকে কোনও বড় গুপ্তচরবৃত্তির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।