নিজস্ব প্রতিনিধি, হাজারিবাগ: হাজারিবাগের একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে গর্ভবতীকে জানানো হয়েছিল গর্ভস্থ ভ্রূণের হৃদস্পন্দন নেই। মৃত্যু হয়েছে তাঁর। সেই মহিলাই বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম দিয়েছেন এক সুস্থ সবল পুত্রসন্তানের। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সরকারি হাসপাতালের গাফিলতি কোন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জেলা পর্যায়ের তদন্ত।
চালকুশা ব্লকের বাসিন্দা মনীষা দেবীর ৪ জুন বুধবার প্রসববেদনা শুরু হয়। দেরি না করে স্বামী বিনোদ সাউ স্ত্রীকে নিয়ে ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেখ ভিখারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্মীরা গর্ভবতীকে ভর্তি নিতে রাজি হননি। তাঁরা দম্পতিকে কোনও পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই জানান যে মনীষার হিমোগ্লোবিন স্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়েছে। ফলে গর্ভস্থ সন্তান আগেই মারা গিয়েছে। তাই ভর্তি নিয়ে কোনও লাভ নেই।
কিন্তু হাসপাতালের কর্মীদের কথা বিশ্বাস হয়নি বিনোদের। তিনি দ্রুত সেন্ট কলম্বাস মিশন হসপিটাল নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান মনীষাকে। সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছিই অবস্থিত এই হাসপাতালটি।
হাসপাতাল কর্মীরা মনীষার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। তারপর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই একটি সুস্থ পুত্রসন্তানের জন্ম দেন মনীষা। বিনোদ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমার স্ত্রী এবং ছেলে দু’জনকেই বাঁচানোর জন্য সেন্ট কলম্বাসের ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানাই।”
৬ জুন শুক্রবার হাজারিবাগের জেলা প্রশাসক শশী প্রকাশ সিং জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারি হাসপাতালগুলি অভাবীদের সেবাপ্রদানের জন্যই তৈরি। এই ধরণের সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করার মতো কাজ কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।” সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এও দেখা হবে যে চিকিৎসা বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে।
সেন্ট কলম্বাস পরিচালনাকারী ট্রাস্টের প্রধান ডাঃ প্রবীণ কুমার জানিয়েছেন, মনীষার শারীরিক পরীক্ষা নিরিক্ষার ফলাফল ভাল আসে। কোনও জটিলতা ছাড়াই তিনি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন। মা এবং শিশু উভয়েই ভাল আছেন।