নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোপাল: রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় রাজ্জার ভাই সচিন রঘুবংশী একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন সোনম রাজাকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিল ববি দেওল, আমিষা প্যাটেল অভিনীত হিন্দি সিনেমা ‘হামরাজ’ দেখে। সেই সঙ্গে সচিন মেঘালয় সরকার এবং সেখানকার বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তিনি মেঘালয় পুলিশের প্রশংসা করে বলেন যে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে যে জটিল মামলার মীমাংসা হল তা পুলিশেরই জন্য। তিনি সোনম ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচিন রঘুবংশী বলেন, “সোনম হামরাজ সিনেমার মতো ষড়যন্ত্র করেছিল। সে রাজাকে মেঘালয়ের সোহরায় নিয়ে গিয়েছিল। তারপর সুপারি কিলার আকাশ রাজপুত, বিশাল ওরফ ভিকি ঠাকুর এবং আনন্দ কুর্মির সহায়তায় রাজাকে হত্যা করে।” জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় সোনমের প্রেমিক রাজ কুশওয়াহারও ভূমিকা ছিল।
সচিন জানিয়েছেন, সোনম রাজাকে বলেছিলেন যে তিনি মাঙ্গলিক। তাই কামাখ্যা মন্দির প্রদক্ষিণের পর তিনি নতুন জীবন শুরু করতে চান। এটিই ছিল সোনমের ষড়যন্ত্রের সূচনা। মৃত রাজা রঘুবংশীর দাদার কথায়, “ সোনম সাতটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের পরিবার, মেঘালয়ের পর্যটক ভিত্তিক পরিবার, চার খুনির পরিবার এবং তার নিজের পরিবার। ওকে পিশাচিনী বলা উচিত। ”
মেঘালয় সরকার এবং পর্যটন মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে সচিন বলেন, “সোনমের কারণে মেঘালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। এটি এমন একটি পর্যটন এলাকা যেখানে মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে পর্যটনের উপরেই। আমি সমগ্র ভারতের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সকলে মেঘালয় যান। ভ্রমণের জন্য এক আদর্শ জায়গা মেঘালয়।”
পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ইন্দোর থেকে ২৩০০ কিলোমিটার দূরে ১৭ দিনের মধ্যে পুলিশ এই মামলাটির সমাধা করেছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার সর্বাত্মমক প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে।”
রাজাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে প্রেমিক রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে ঘর বাঁধতে চেয়েই স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা করে সোনম রঘুবংশী। সেই জন্যই ইন্দোর থেকে বহু দূরে মেঘালয়ে হানিমুন প্ল্যান করে সঙ্গে করে ভাড়াটে গুন্ডা নিয়ে গিয়েছিল সে।