নিজস্ব প্রতিনিধি, চেন্নাই : আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের বছর ১৯-র ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত এ জ্ঞানশেখরনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গত বুধবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল চেন্নাইয়ের মহিলা আদালত৷ সোমবার এই মামলায় সাজা ঘোষণা করেছেন মহিলা আদালতে বিচারক রাজালক্ষ্মী৷ বিরিয়ানি বিক্রেতা এ জ্ঞানশেখরনকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।
বিচারক রাজালক্ষ্মী জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৩০ বছর তাকে জেলে থাকতেই হবে। মা ও নাবালিকা কন্যার কথা বলে নূন্যতম শাস্তির আবেদন জানিয়েছিল অভিযুক্ত। কিন্তু তাকে যাবজ্জীবনের সাজা শুনিয়েছে আদালত। বিগত ৫ মাস ধরে বিচারের পর অবশেষে শাস্তি পেয়েছে অভিযুক্ত। বিচারক গত বুধবার জ্ঞানশেখরনকে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, ভয় দেখানো এবং অপহরণ সহ ১১টি অভিযোগের দোষী সাব্যস্ত করেছেন। মামলায় কমপক্ষে ২৯ জন সাক্ষী দিয়েছেন এবং পুলিশ ১০০ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা করেছে। সমস্ত অভিযোগ দেখে বিচারক জানিয়েছিলেন, সর্বোচ্চ সাজা হবে অভিযুক্তের।
উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বরে চেন্নাইয়ের আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢুকে ফাঁকা জায়গায় ছাত্রীকে একা পেয়ে যৌন নির্যাতন করে৷ ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তামিলনাড়ুজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল৷ তদন্ত চলাকালীন ভিডিয়ো কলে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন নির্যাতিতা ছাত্রী৷ পরে জ্ঞানশেখরনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ৩ জন মহিলা আইপিএস নিয়ে বিশেষ দল গঠন করেছিল তামিলনাড়ু সরকার৷ তদন্তের পর ফেব্রুয়ারিতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিট৷ এরপরেই মামলাটি চেন্নাইয়ের মহিলা আদালতে যায়৷ অভিযোগ উঠেছিল, রাজ্যের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ডিএমকে-র সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে অভিযুক্তর৷ যদিও, মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অভিযুক্তর সঙ্গে দলের সরাসরি কোনও যোগ নেই৷