নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি : ফের নক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী রাজধানী দিল্লি। সুটকেসবন্দি অবস্থায় ৯ বছরের নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির দয়ালপুর থানা এলাকার নেহরু বিহারে। দেহ উদ্ধারের পর শিউরে উঠেছে দিল্লিবাসী। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাড়ির পাশেই আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার নাম করে বেরিয়েছিল নাবালিকা। কয়েক ঘণ্টা হয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় তাকে খুজতে বের হন নাবালিকার বাবা। কিন্তু ওই আত্মীয়ের বাড়িতে যায়নি নাবালিকা। স্থানীয় একজন জানান, অন্যদিকে যেতে দেখেছেন নাবালিকাকে। সেই দিকে খোঁজ করলে একটি বন্ধ ফ্ল্যাটের ভিতরে কিছু আওয়াজ পেয়ে সন্দেহ হয়। দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে একটি বন্ধ সুটকেস পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় সকলের। সুটকেস খুলতেই শিউরে ওঠেন সকলে। অর্ধনগ্ন অবস্থায় উল্টো করে সুটকেসে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল তাকে। দ্রুত খবর যায় পুলিশে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। তার আগেই নাবালিকাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেছে।
নাবালিকার বাবা জানিয়েছেন, নাবালিকা এক আত্মীয়কে বরফ দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিছুক্ষণ পরেও বাড়ি না ফেরায় আত্মীয়কে ফোন করে জানতে পারেন যে সে সেখানে যায়নি। এরপরেই খুঁজতে বের হন। স্থানীয়রাই একজন জানান, কাছের একটি ফ্ল্যাটের দিকে নাবালিকাকে যেতে দেখা গিয়েছে। ওই ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। পরে ঘরের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, নাবালিকার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুখে, গায়ে একাধিক ক্ষত লক্ষ্য করা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নাবালিকার ওপরে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পকসো ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু কে বা কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে ইতিমধ্য়েই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অপরাধ দমন শাখা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযুক্তদের খোঁজে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। দয়ালপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ১০৩(১)/৬৬/১৩(২) এবং ৬ পকসো আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।