নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাগলপুর: অসাবধানতার কারণে ছোবল বসিয়ে দিয়েছিল বিষধর প্রজাতির সাপ হিসাবে পরিচিত রাসেল ভাইপার। কিন্তু ছোবল খাওয়ার পরেও কোনও ভাবেই ঘাবড়াননি প্রকাশ মণ্ডল। বরং চিকিৎসক যাতে ছোবল বসানো সাপকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারেন সেই জন্য প্রাণঘাতী সরীসৃপকে গলায় জড়িয়ে, হাতের মুঠোয় সাপের মাথা শক্ত করে চেপে হাজির হলেন ভাগলপুর হাসপাতালে। আর সাপে কাটা প্রকাশের এমন বীরত্ব দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল চিকিৎসক-সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাপের ছোবল খাওয়া প্রকাশের অবস্থা বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল।
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে লুঙ্গি ও স্যান্ডো গেঞ্জি পরিহিত প্রকাশ গলায় সাপ ঝুলিয়ে এবং রাসেল ভাইপালের মুখ হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে হাসপাতালে ঢুকছে। আর চোখের সামনে ওই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে কার্যত ‘আত্মারাম খাঁচা’ হওয়ার জোগাড় হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মী ও অন্যান্য রোগীর পরিবার-পরিজনদের। অনেকেই আতঙ্কে পড়িমড়ি করে ছুটে পালালেন। একসময়ে যন্ত্রণায় মেঝেতে শুয়েই ছটফট করতে থাকেন প্রকাশ। যদিও মুঠোর বাঁধন আলগা করেননি। সাপ বাবাজীবন যাতে না পালাতে পারে তার জন্য মুষ্ঠি শক্ত করে ধরে রেখেছেন।
খানিকবাদে সাহস করেই স্বাস্থ্য কর্মীরা স্ট্রেচারে শুইয়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাসন প্রকাশকে। তখনও সাপের মুখ হাতের মুঠোয় ধরা। সাপকে না সরালে যে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব নয়, তা ছোবল খাওয়া প্রকাশকে জানিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের ওই দাওয়াতেই কাজ হয়। ছোবল বসানো সাপটিকে ছেড়ে দেন প্রকাশ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত স্থিতিশীল রয়েছেন প্রকাশ। মূলত কৃষি জমিতে বাসা বেঁধে থাকা রাসেল ভাইপার ভারত-সহ এশিয়ার একাধিক দেশে বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে ভাগলপুরের বিভিন্ন হোস্টেল এবং বাড়ি থেকে কয়েক হাজার রাসেল ভাইপার উদ্ধার করেছে বন দফতর।