পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : বিদ্যা-বুদ্ধির দেবী হলেন সরস্বতী। তাঁর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগ্বেদে। তিনি পরম করুণাময়ী, বিশালাক্ষী ও বিদ্যাদায়িনী। এ জগতে অজ্ঞানতা দিয়ে কোনও কর্মই সম্ভবপর নয়। আর সেই অজ্ঞানতা দূরীভূত হয় জ্ঞানের মাধ্যমে। সেই জ্ঞানের দেবীই হলেন মাতা সরস্বতী। তবে একটা অবাক করা বিষয় হল, ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মন্দির থাকলেও দেবী সরস্বতীর মন্দির খুঁজে পাওয়া দুস্কর হয়ে ওঠে। এর নেপথ্যে কী এমন কারণ আছে ? কেন দেবী সরস্বতীর মন্দির তেমন চোখে পড়ে না?
শাস্ত্র মতে বলতে গেলে বলা বাঞ্চনীয় যে, মানুষের মধ্যেই সরস্বতীর বাস। মানুষরা যে কথা বলছে অর্থাৎ, তাঁর বাগ্মিতা, তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর সঙ্গীত, শিল্পকলা – এ সবই হল দেবী সরস্বতীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতি। তিনিই যে কোনও বিদ্যা, তা সে পড়াশুনো, কি কৃষি বা অন্য যে কোনও বিদ্যাই হোক। এ সবের নেপথ্যের চালিকা শক্তি তিনিই। পৌরাণিক কাহিনী মতে স্বয়ং ব্রহ্মা নিজ মুখে দেবী সরস্বতীর নামোচ্চারণ করেছিলেন। ফলে সকল মানুষের মুখেই সরস্বতীর বাস। জানা যায়, স্বরবর্ণের প্রথম অক্ষর ‘অ’ থেকে শেষ ব্যঞ্জন যুক্তাক্ষর ‘ক্ষ’ (ক + ষ) পর্যন্ত তাঁর ব্যাপ্তি। বীণাপাণির হাতে থাকা তাঁর অক্ষমালা এই বিশাল ব্যাপ্তির প্রতীক। তাঁর এই সর্বব্যাপী সত্তাকে কোনও স্থায়ী মন্দিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।
অতএব, এর থেকে অতি সহজেই বলা যায়, দেবী সরস্বতীর মন্দিরের অভাব তাঁর সর্বব্যাপী সত্তারই প্রতিফলন। তিনি মানুষের হৃদয়ে ও জ্ঞানে বিরাজমান, যা কোনও স্থায়ী স্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়।