নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: রাখাইন রাজ্যের জন্য ‘মানবিক’ করিডরের অছিলায় ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ঘেরার হুঙ্কার ছাড়ল বাংলাদেশ সেনা। আজ মঙ্গলবার (২০ মে) বাংলাদেশ সামরিক গোয়েন্দা শাখার মুখপাত্র ‘বিডিমিলিটারিকম’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ওই হমকি দেওয়া হয়েছে। এই প্রথম বাংলাদেশ সেনার অর্থায়নে পরিচালিত কোনও অনলাইন ওয়েবপোর্টালে এমন হুঙ্কার ছাড়া হল প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে পাকিস্তান ও চিনের দোসর হয়ে উঠেছে, তা ছত্রে-ছত্রে ফুটে উঠেছে দুই নিবন্ধে।’
বাংলাদেশ সেনার গোয়েন্দা শাখা ডিজিএফআইয়ের ‘বিডিমিলিটারিডটকম’-এ আয়েশা ফরিদ এবং খালিদ মাহমুদ নামে দুই পাকিস্তানি এজেন্টের দুটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ‘The Rohingya Safe Zone: A Technical Analysis Of Bangladesh’s strategic Opportunity To Establish Depth & Encircle North East India’ এবং ‘Countering Indian Hegimony Through a Rohingya Safe zone’ শীর্ষক দুটি নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গা নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারকে পূর্ব সীমান্তে শক্তিবৃদ্ধি করার পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিকে কার্যকরভাবে ঘিরে ফেলার জন্য একটি অনন্য কৌশলগত সুবিধা এনে দেবে। ভারতের কালাদান মাল্টি-মডেল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা পরীক্ষা করা এবং মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে একটি “গুরুত্বপূর্ণ বাধা” হিসেবে তুলে ধরা যা “ভারতীয় এবং আঞ্চলিক শক্তি দ্বারা ব্যবহৃত ট্রানজিট রুটগুলিকে সম্ভাব্যভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং শত্রুতামূলক কৌশল রোধ করা যাবে”।
নিবন্ধ দুটিতে বলা হয়েছে, ‘রাখাইন রাজ্যের প্রবেশপথের উপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ভারতের উপর কৌশলগত চাপ প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে ঢাকা। সম্ভাব্যভাবে ভারতীয় সেনার লজিস্টিক লাইন ব্যাহত করবে, সামরিক গতিশীলতা সীমাবদ্ধ করবে এবং বাণিজ্য প্রবাহকে প্রভাবিত করবে।’ ল্লেখ করে, বিশ্লেষণে “আন্তঃসীমান্ত চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা হুমকি প্রতিরোধের জন্য বাফার জোনের মধ্যে নজরদারি এবং প্রতিরক্ষামূলক সম্পদ মোতায়েনের” প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাখাইন নিরাপদ অঞ্চলের অছিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ভারতীয় সেনার মুভমেন্টের উপর নজরদারি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধে এও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশকে অবশ্যই তার কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ট্রানজিট এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার আলোচনা করতে হবে যা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশপথের উপর তার প্রভাবকে সুসংহত করবে, যার ফলে ঘেরাও সুবিধা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।’