নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নিরাপদেই গাজিয়াবাদে পৌঁছলেন বাংলাদেশের পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সন্ধে ৫টা বেজে ৩৬ মিনিটে তাঁকে বহনকারী বিশেষ বিমান C 130 গাজিয়াবাদের হিন্ডন বায়ু সেনার ঘাঁটিতে অবতরণ করে। ভারতের বায়ু সেনার আধিকারিকরা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সূত্রের দাবি, মোদি সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চাননি শেখ হাসিনা। কিছু ক্ষণের মধ্যেই ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন বাংলাদেশের সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী।
চোরের মতো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দয়ায় পাওয়া বায়ু সেনার কপ্টারেই সোমবার দুপুরে ঢাকা ছাড়েন শেখ হাসিনা। সঙ্গে ছিলেন বোন শেখ রেহানা। বাংলাদেশ বায়ু সেনার হয়ে কপ্টারটি চালানোর দায়িত্ব পেয়েছেন এয়ার কমোডর আব্বাস। তিনি ১০১ স্কোয়াড্রনের সদস্য। সূত্রের দাবি, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান তাঁকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়ার জন্য পৌনে এক ঘন্টা সময় বেঁধে দেন। দেশ ছাড়ার আগে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। কিন্তু তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সূত্রের খবর, দেশের সেনাপ্রধান ইস্তফা ও দেশ ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরেই দিল্লির শীর্ষ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন শেখ হাসিনা। তাঁকে উদ্ধারের জন্য বিশেষ বিমান পাঠানোর আর্জি জানিয়েছিলেন বান্ধব মোদি সরকারের কাছে। কিন্তু দিল্লির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে বিমান পাঠানো হবে না। আগে তাঁকে যে কোনও উপায়ে ভারতের মাটিতে পৌঁছতে হবে। তার পর সেখান থেকে তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
কপ্টারে ঢাকা থেকে দিল্লি পর্যন্ত আসার কোনও উপায় না থাকায় শেখ হাসিনাকে বহনকারী বামলাদেশ বায়ু সেনার হেলিকপ্টার প্রথমে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবতরণ সেখান থেকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ বিমানে গাজিয়াবাদের বায়ু সেনা ঘাঁটিতে উড়িয়ে আনা হয়।