নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোট প্রচারের শেষ লগ্নে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল দাবি করেছেন, ‘দিল্লির ৭০ বিধানসভা আসনের মধ্যে কমপক্ষে ৫৫টি আসনে জিতে ফের সরকার গড়তে চলেছে আম আদমি পার্টি। মহিলারা যদি বুথে বেশি সংখ্যায় হাজির হয় সেক্ষেত্রে আপ ৬০টি আসনে জিতবে।’ যদিও আম আদমি পার্টির সুপ্রিমোর দাবিকে গুরুত্ব দিতে চাননি বিজেপি নেতারা। বিজেপির দিল্লি শাখার সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেব পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে বলেছেন, ‘কেজরিওয়াল দিবাস্বপ্ন দেখছেন। ৮ তারিখে তিনি কল্পনার চূড়া থেকে মাটিতে ধপাস করে পড়বেন।’
সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় শেষ হয়েছে দিল্লি বিধানসভার ভোটের প্রচার। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে পাঁচ বছরের জন্য ভাগ্য বিধাতাদের বেছে নেবেন দিল্লির বাসিন্দারা। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জানা যাবে, পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য কোন দলের হাতে নিজেদের ভাগ্য সঁপে দিলেন রাজধানীর ভোটাররা। তবে বুধবার ভোটগ্রহণ শেষের পরেই বুথফেরত সমীক্ষায় মিলতে পারে ইঙ্গিত।
এক দফায় দিল্লির ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হবে। মূল লড়াই বিজেপি, আম আদমি পার্টি এবং কংগ্রেসের মধ্যে। যদিও ভোটের ময়দানে রয়েছে অজিত পওয়ারের এনসিপি, বহুজন সমাজ পার্টি-সহ আরও একাধিক দল। এবারের প্রচারে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে প্রতিপক্ষ শিবিরগুলো। অতীতে যা দেখা যায়নি। ভোট প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। ২৩ বছর দিল্লির গদি দখল থেকে দূরে থাকা বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচারে মঠে নেমেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহরা। কংগ্রেসের তরফে প্রচার চালিয়েছেন রাহুল গান্ধি-প্রিয়াঙ্কা গান্ধি-মল্লিকার্জুন খাড়গেরা। আর আম আদমি পার্টির প্রচারের নেতৃত্বে ছিলেন দলের জাতীয় সমন্বয়ক তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
প্রচারের শেষদিনে এদিন দলীয় প্রার্থীদের হয়ে রোড শোয়ে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধিরা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আতিশী মারলেনার হয়ে পথসভা করেন তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। প্রচারের শেষ দিনেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারকে এক হাত নিয়েছেন আপের জাতীয় সমন্বয়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে বিজেপিকে ভোটে জেতাতে সক্রিয় হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না কমিশন।’ এর পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘অবসরের পর কোন পদ পাবেন? রাষ্ট্রপতির নাকি রাজ্যপালের।’
ভোট প্রচার থামার তিন মিনিট আগে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার)-এ নিজের হ্যান্ডেলে আপ সুপ্রিমো লিখেছেন, ‘আমার অনুমান অনুযায়ী, আম আদমি পার্টি ন্যূনতম ৫৫টি আসন পাচ্ছে। কিন্তু মহিলারা সবাই ভোট দিতে যান এবং তাদের বাড়ির পুরুষদের আম আদমি পার্টিকে ভোট দিতে রাজি করান তাহলে সংখ্যাটি ৬০ ছাড়িয়ে যাবে।’
मेरे अनुमान के मुताबिक आम आदमी पार्टी की 55 सीट आ रही हैं लेकिन अगर महिलाएं ज़ोर लगा दें – सभी वोट करने जायें और अपने घर के पुरुषों को भी आम आदमी पार्टी को वोट देने के लिए समझायें – तो 60 से ज़्यादा भी आ सकती हैं।
— Arvind Kejriwal (@ArvindKejriwal) February 3, 2025