নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘মা’ শব্দটি সমগ্র পৃথিবীকে ঘিরে রেখেছে, এক কথায় প্রতিটি সন্তানের জীবনে মায়ের কোনও বিকল্প নেই। এমনকী একজন মায়েরও সমগ্র পৃথিবী জুড়ে থাকে তাঁর সন্তান। কিন্তু রাজস্থানের জয়পুর থেকে এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা সমস্ত মা-সন্তানের সম্পর্কগুলিকে একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে। একজন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধার মৃত্যুর পর, তাঁর দেহ শেষকৃত্যের জন্যে শ্মশানে আনা হয়। বৃদ্ধার দেহ পোড়ানোর জন্যে কাঠেরও ব্যবস্থা করা হয়। ঠিক যখন বৃদ্ধাকে দাহ করার জন্যে শ্মশানবাসীরা প্রস্তুত, ঠিক তখনই মায়ের চিতায় শুয়ে পড়ল ছেলে। কী ভাবছেন, মায়ের প্রতি ভালবাসা দেখাতেই এমন কাণ্ড করল ছেলে, মায়ের মৃত্যুতে যন্ত্রণায় কাতর ছেলে, না একেবারেই নয়! মায়ের রুপোর কোমরবন্ধনী খুলে নেওয়ার জন্যেই মায়ের চিতায় উঠে পড়েছিল অমানবিক ছেলে। হ্যাঁ, সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে, জয়পুর গ্রামীণ এলাকার বিরাটনগর এলাকায়। যেখানে গত ৩ মে দুপুর ১২ টা নাগাদ মারা যান ওই ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা। এরপর তাঁর শেষকৃত্যের জন্যে তাঁকে নিকটবর্তী শ্মশানে নিয়ে যায় তাঁর পরিবার। হিন্দু নিয়ম অনুযায়ী, বৃদ্ধাকে দাহ করার আগে তাঁর পরনে সমস্ত সোনার গহনা খুলে তাঁর পুত্র গিরিধারী লালের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তা দেখে মেজাজ হারিয়ে বৃদ্ধার ছোট ছেলে ওমপ্রকাশ মায়ের চিতার উপর শুয়ে পড়েন। এবং তিনি বলতে থাকেন, ‘আগে আমাকে মায়ের কোমরবন্ধনী খুলে দাও। এরপর মাকে দাহ করতে পারবে। এটা না দিলে আমি এক্ষুনি এখানে নিজেকে জ্বালিয়ে দেব।’ শ্মশানে বৃদ্ধার ছেলের এমন কাণ্ড দেখে হতবাক হয়ে যান সকলে। এরপর আত্মীয়স্বজন, পরিবার, পাশে থাকা সমস্ত শ্মশানবাসীরা তাঁকে এই কুকর্ম না করার অনুরোধ করেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা ছেলে চিতাতেই শুয়ে থাকেন।
এরপর লোকেরা তাঁকে জোর করে চিতা থেকে তুলে নেন। এবং চিতা থেকে মায়ের শরীরে অবশিষ্ট রূপোর গহনা খুলে নেন। এরপর প্রায় ২ ঘন্টা পর বৃদ্ধার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটির ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এমনকী শোনা যায়, গহনা পাওয়ার পর অমানবিক ছেলে শ্মশানে মায়ের দাহ করতেও অংশ নেননি। এই ঘটনায় স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরেই ওমপ্রকাশ ও তাঁর অন্যান্য ভাইদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই কারণে ওমপ্রকাশ আলাদা হয়ে যান। অন্য এক জায়গায় বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকেন। বর্তমানে তাঁর এই কীর্তিকলাপ দেখে নেটপাড়ার রোষানলে পড়েছে।