পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : উচ্চকোটি মাতৃসাধক রামপ্রসাদ ছিলেন মা কালীর প্রকৃত সন্তান ও একনিষ্ঠ ভক্ত। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, তিনি নিজেই চেয়েছিলেন মায়ের কোলেই বিলীন হতে। যার প্রমাণ তাঁর গানেও পাওয়া যায়। তিনি তাঁর গানে বলেছিলেন –
“ডুব দে রে মন কালী বলে!! হৃদি-রত্নাকরের অগাধ জলে! রত্নাকর নয় শূন্য কখন, দু-চার ডুবে ধন না পেলে! তুমি দম-সামর্থ্যে এক-ডুবে যাও, কুলকুণ্ডলিনীর কূলে!!”
সত্যিই ঠিক এমনটাই হয়েছিল। তিনি যেন তাঁর মৃত্যুর ব্যাপারে পূর্বেই উপলব্ধি করেছিলেন আর তাই এমনটা তাঁর গানেও বলেছিলেন। সময়টা আনুমানিক ১৭৮১ খিস্টাব্দ, মতান্তরে ১৭৭৫ খিস্টাব্দ। সেদিন ছিল দীপান্বিতা কালীপুজো। বিপত্নীক রামপ্রসাদ প্রতিবছরের মত সেবারও কালীপুজোর আয়োজন করেছিলেন। জানা যায়, সে সময় রামপ্রসাদকে মাতৃ আরাধনায় সাহায্য করতেন পুত্র রামদুলাল ও পুত্রবধূ ভগবতী। সারারাত ধরে পূজা করার পর ভোররাত্রে মাকে অনেকক্ষন গান শুনিয়েছিলেন রামপ্রসাদ। চোখে ছিল অশ্রুধারা।
পরদিন সন্ধ্যায় মা কালীর ছোট্ট প্রতিমাটি মাথায় নিয়ে রামপ্রসাদ ভক্তবৃন্দের সঙ্গে গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। এদিকে অশ্রুসিক্ত নয়নে তাঁর মুখে অবিরাম লেগেই ছিল শ্যামা সংগীত। তারপর মাকে মাথায় নিয়ে তিনি ডুব দিয়েছিলেন গঙ্গায়। মা’কে ভাসিয়ে দিয়ে আরও কয়েকটি ডুব দিয়েছিলেন রামপ্রসাদ। ঠিক তখনই ঘনিয়ে এসেছিল সেই অন্তিম মুহূর্ত। মা’কে বিসর্জন দিয়ে তিনি নিজেও ঢলে পড়েছিলেন পতিতপাবনী গঙ্গাবক্ষেই। ভক্তবৃন্দ বলেছিলেন, বিদায়কালে মা তাঁর দুঃখী ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে গেলেন।