পৃথ্বীজিৎ চট্টোপাধ্যায় : সারা বাংলা জুড়েই অসংখ্য প্রাচীন কালী আছে। তাঁদের মধ্যে অনেক কালী মায়ের পুজো তৎকালীন ডাকাত সর্দারদের হাত ধরে শুরু হয়েছিল। তেমনই এক প্রসিদ্ধ ডাকাতকালী হল বনগাঁর সাত ভাই কালী। কথিত আছে, একবার ডাকাতি করে ফেরার সময় সেই ডাকাতদের উদ্দেশ্যে মা কালী বলেছিলেন তোরা সব কিছু নিয়ে যাচ্ছিস, আমাকে নিবি না! এই শুনে ডাকার দলের মধ্যে থেকে কয়েকজন মা কালীকে-কে নিয়ে চলে এসেছিলেন। কিন্তু, শুধু নিয়ে এলেই তো হলনা, তারা মা’কে রাখার কোনো জায়গা ঠিক করে উঠতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে বনগাঁ ইছামতি নদীর ধারে এসে হাজির হয়েছিল সেই ডাকাত দল। বন জঙ্গলে ঘেরা বট গাছের নিচে ডাকাতসর্দার প্রতিষ্ঠা করলেন মা-কে। সেই থেকে চলে আসছে এই পুজো।
জনশ্রুতি আছে, অবিভক্ত বাংলার যশোরের জমিদার বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়েছিল সাত জন ডাকাতের একটি দল। সম্পর্কে সেই ডাকাতরা ছিল আপন ভাই। ডাকাতি করে ফেরার পথে কালীঠাকুরের আদেশে কালীমূর্তিও সঙ্গে করে নিয়ে আসেন তারা। জানা যায়, বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পুরাতন বনগাঁর ইছামতি নদীর ধারে জঙ্গল ঘেরা বটগাছের নীচে কালীমূর্তি স্থাপন করা হয়। দেবীপুজোর জন্য ডাকাত দল পুরোহিতের খোঁজে বের হয়। যেহেতু, কর্তার ইচ্ছাই সব। তাই স্থানীয় এক চক্রবর্তী পুরোহিতকেও খুঁজে পান ডাকাতসর্দার।
মন্দির কমিটি সূত্রে খবর, তারাই বংশ-পরম্পরায় পুজো করে আসছেন। জানা গেছে, আনুমানিক ৪০০ বছর আগে এই পুজো শুরু হয়েছিল। বনগাঁর এই জাগ্রত কালী মন্দিরই সাত ভাই কালীতলা নামে পরিচিত। সারা বছরই এই মন্দিরে ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে। তবে সেবায়েতরা জানিয়েছেন, ফলহারিণী কালী পুজো ও দীপান্বিতা কালীপুজোতে অগণিত ভক্তের ভিড় হয় এই মন্দিরে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মা’কে নিজের মনোস্কামনা জানালে মা কখনো খালি হাতে ফেরাননা।