নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতে আর বেশিদিন সময় নেই। এরপরেই হবে কালীপুজো। দেবী কালী হলেন দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী। শাক্তমতে কালী বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির আদি কারণ। বলা হয় দেবী কালী হলেন স্বয়ং মহাদেবেরই ক্রোধের বহি:প্রকাশ। শিবপুরাণ অনুসারে, মা কালী এবং বীর ভদ্র শিবের ক্রোধ থেকে জন্মগ্রহণ করেন। তেমনই আবার শিবের সহধর্মিণী পার্বতীর ধ্বংসাত্মক রূপ হল দেবী কালী। আর কালী পুজোর কথা উঠলেই মনে পড়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের কালীপুজো। সেই সূদুর অতীত থেকে আজও রীতি-নীতি মেনে চলে আসছে। তবে এই কালীপুজো শুরু হওয়ার পূর্বে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
বলা হয়, আজ থেকে প্রায় এক শতক আগেকার কথা। কথিত আছে, স্বপ্নাদেশ পেয়ে শ্মশানের জঙ্গল সাফ করে টালির ছাউনির চার চালা মন্দির তৈরি করেছিল স্থানীয় চক্রবর্তী পরিবার। মজে যাওয়া আদিগঙ্গার তীরে, বটগাছে ঘেরা শ্মশানেই ১১০ বছর আগে গড়ে উঠেছিল মন্দির। সেই থেকে নিয়ম নিষ্ঠা মেনে আজও চলে আসছে মায়ের আরাধনা।
আদিগঙ্গার পাড়ে কয়েকশো বছরের প্রাচীন মন্দিরবাজারের দক্ষিণ বিষ্ণুপুর শ্মশান। এই শ্মশানেই পূর্বে ভিড় জমাতেন তান্ত্রিক ও সাধকরা। বলা হয় এখানে শব সাধনায় বসতেন অনেকেই। শ্বশ্মানের এক ভয়ংকর পরিবেশ, আজও ভেতরে ঢুকলে গা ছমছম করে ওঠে। শোনা যায় গভীর রাতে গা ছমছমে পরিবেশ তৈরি হয়। তান্ত্রিকদের সাধনার জোরে আজও রাতের অন্ধকারে জেগে ওঠে শ্মশান। ঘোরাফেরা করে মৃতদের আত্মা। মনে করা হয় যাঁদের অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের আত্মা ঘোরফেরা করে এখানে।
আরও পড়ুন : জেনে নিন মা কালী বিবস্ত্র থাকার পেছনে কোন রহস্য লুকিয়ে আছে ?
শোনা যায়, আগে এই শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলেই টালির ছাউনির নীচে কালী পুজো শুরু করেছিলেন তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী। ১০৮ টি নরমুণ্ড দিয়ে চলত তন্ত্রমতে দেবীর উপাসনা।সেই থেকেই শ্মশানে পূজিত হয়ে আসছেন মা করুণাময়ী কালী। শ্যামাকালী পুজোর দিন আজও এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান এই মন্দিরে। দেবী কালীর স্বপ্নাদেশ শুরু হয়েছিল শ্মশান লাগোয়া জঙ্গলের মধ্যে পুজো। তবে দেবী নিত্যপূজার ইচ্ছা প্রকাশ করলে পাকাপাকিভাবে তৈরি করা হয় মন্দির। দেবী মূর্তির পিছনে বসানো হয় ১০৮ টি নরমুণ্ড। সামনে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন । এখানে তন্ত্রমতে দেবীকে পুজো দেওয়া হয়। তবে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বলি।
জানেন কী মা কালীর বাহন শেয়াল কেন ? শেয়ালের ছদ্মবেশে প্রাণিটি আসলে কে ?