নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাক গণহত্যাকারীদের দোসর ‘রাজাকার, ‘আল-বদর’ ও ‘আল শামস’ বাহিনীর সদস্যদের ‘ধর্মযোদ্ধার’ মর্যাদা দিচ্ছে মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। ইতিমধ্যেই জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও একাত্তরের কসাই এটিএম আজহারুল ইসলামের সঙ্গে এ বিষয়ে দু’দফায় বৈঠক করেছেন ইউনূস। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব সিরাজউদ্দিন মিঁয়া, ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। ওই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদও।
সূত্রের খবর, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর দোসর হিসাবে আবির্ভূত হওয়া রাজাকার, আল বদর ও আল-শামস বাহিনীর জীবিত সদস্যদের তালিকা চাওয়া হয়েছে জামায়াতের আমিরের কাছে। বৈঠকে ঠিক হয়েছে, ধর্মযোদ্ধা হিসাবে রাজাকারদের তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হবে। যারা ওই সময়ে জেলা আমির ও কম্যান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাদের ‘বীর ধর্মযোদ্ধা’, যারা অঞ্চল ভিত্তিক কম্যান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাদের ‘ধর্মযোদ্ধা’ এবং যারা সাধারণ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাদের ‘সহযোগী ধর্মযোদ্ধা’র স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বৈঠকে ঠিক হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধারা যে সব সুবিধা পান তার তিন গুণ বেশি সুবিধা পাবেন রাজাকার বা ধর্মযোদ্ধারা। মাসিক ভাতার পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এককালীন ২০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কোনও রাজাকার যদি বেঁচে না থাকেন তাহলে তার পরিবার ১০ লক্ষ টাকা সাহায্য পাবে। মৃত রাজাকারের পরিবারের একজন সদস্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সংরক্ষণের আওতায় আসবেন। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা পাবেন। আয়কর দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ছাড় পাবে। মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি যেমন দেখভাল করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রক, তেমনই ‘ধর্মযোদ্ধাদের’ বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রক। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই ধর্মযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা দেওয়া হবে। রাজাকারদের ‘ধর্মযোদ্ধা’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে যে অধ্যাদেশ জারি করা হবে তার খসড়া প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে। তাকে এ বিষয়ে সাহায্য করবেন ধর্ম বিষয়ক এবং আইন বিষয়ক উপদেষ্টা। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই খসড়া চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে হাজির এক উপদেষ্টার কথায়, ‘একাত্তরে ভারতের ইঙ্গিতেই পাকিস্তান ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন শেখ মুজিব ও তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। তারা যেমন নতুন দেশ গড়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, তেমনই মুসলিম লীগ, জামায়াত ইসলামী-সহ মুসলিম সংগঠনের সদস্যরা পাকিস্তান বাঁচাতে, ইসলাম ধর্মকে বাঁচাতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। দেশ ও ধর্ম বাঁচাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বহু ধর্মপ্রাণ মুসলিম নৃশংসভাবে খুন হয়েছিল। গত ৫৩ বছর রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর সদস্যদের অনেক নির্যাতন ও লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে। সময় এসেছে সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার। দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ উপলব্ধি করতে পেরেছেন রাজাকাররা আসলে ধর্মযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা, জুলাই আন্দোলনের জন্য জুলাই যোদ্ধারা বীরের সম্মান পেলে, দেশ ও ইসলাম ধর্মকে বাঁচানোর জন্য কেন রাজাকারদের বীরের মর্যাদা দেওয়া হবে না?’