নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফেরার’ বা ‘পলাতক’ হিসাবে ঘোষণা করছে মোল্লা ইউনূস সরকার। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে থাকা বঙ্গবন্ধু কন্যার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। আজ সোমবার (১৮ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ সংক্রান্ত বিশেষ আর্জি জানাতে চলেছে পুলিশ।
গত ৫ অগস্ট সেনা বিদ্রোহের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন তিনি। ইতিমধ্যেই বঙ্গবন্ধু কন্যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় দুই শতাধিক মিথ্যা খুন ও গুমের মামলা রুজু হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। সোমবারের (১৮ নভেম্বর) মধ্যেই বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সপার্ষদ-সহ হাজির করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের মহানির্দেশককে নির্দেশ দিয়েছেন আইসিটির প্রধান বিচারক তথা জামায়াত ইসলামীর সুরা মজলিসের সদস্য গোলাম মর্তুজা মজুমদার। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা দিল্লিতে থাকায় সোমবার তাঁকে যে হাজির করা যাচ্ছে না তা নিশ্চিত।
সূত্রের খবর, আজ সোমবার আদালতে বাংলাদেশ পুলিশের মহানির্দেশকের পক্ষ থেকে জানানো হবে, শেখ হাসিনার খোঁজে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু তাঁকে পাওযা যায়নি। তিনি দেশে নেই। পালিয়ে প্রতিবেশি এক দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। ফলে তাঁকে পলাতক হিসাবে ঘোষণা করা হোক। বঙ্গবন্ধু কন্যা যাতে ধরা যেতে বাধ্য হন, তার জন্য বাংলাদেশে থাকা তার স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি ক্রোক করার অনুমতি দেওয়া হোক। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার নামে ধানমন্ডিতে সুধা সদন নামে একটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িটি তাঁর স্বামী তথা দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম ওয়াজেদ মিয়ার। যদিও তিনি কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছেন। গত ৫ অগস্ট দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ির পাশাপাশি সুধা সদন পুড়িয়ে দিয়েছিল জঙ্গিরা। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল বাড়িটি। পোড়া ধ্বংসাবশেষ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাড়িটি। তাছাড়া বাংলাদেশের সোনালী ব্যাঙ্ক-সহ একাধিক ব্যাঙ্কে বেশ কিছু অর্থ গচ্ছিত রযেছে।