নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মোল্লা ইউনূসের জমানায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে ফের একবার তার জলজ্যান্ত উদাহরণ মিলল। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরেই রাজধানীর আজিমপুরে ঘটেছে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা। বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক লুঠতরাজ চালানোর পাশাপাশি যাওয়ার সময়ে এক রত্তি শিশুকেও তুলে নিয়ে গিয়েছে ডাকাতরা। আর ওই খবর জানাজানি হতেই ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন রাজধানীবাসী। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডাকাতদের টিকিও ছুতে পারেনি পুলিশ। এমনকি উদ্ধার করা যায়নি ছোট্ট শিশুটিকেও। ওই ভয়াবহ ডাকাতিকে অবশ্য ছোটখাটো ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার মায়নুল হাসান। সেনাবাহিনী মাঠে থাকার পরেও কীভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়বাহ ডাকাতি সংগঠিত হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটা নাগরিককরা।
ঢাকা পুলিশের লালবাগ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার জসিমউদ্দিন জানিয়েছেন, এদিন দুপুরে আজিমপুরে মেডিকেল কোয়ার্টারের লালবাগ টাওয়ারের পাশের গলিতে হানা দেয় ডাকাতরা। বাড়ির গৃহকর্ত্রী ফারজানা আখতার সরকারি কর্মচারি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে কর্মরত। স্বামী ও শিশু কন্যাকে নিয়ে আজিমপুরের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এদিন বাড়িতে ঢুকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুঠ করার পাশাপাশি যাওয়ার সময়ে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে যায় ডাকাত দল।
ভয়াবহ ডাকাতির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ডাকাতদের সন্ধানে ইতিমধ্যেই একাধিক দল গঠন করে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। ফেসবুকেও শিশুটির ছবি ভাইরাল হয়েছে। প্রকাশ্যে এমন ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন নেটা নাগরিকরা। ইরফান খায়রুল নামে এক নেটা নাগরিক লিখেছেন, ‘বাটপারের দেশ। কত শত মসজিদ আর মোল্লা। ধর্ষক মুনিনুল হক জেলের বাইরে। তার ফাঁসি হল না।’ আবদুল মাজিদ নামে আর এক নেটা নাগরিক লিখেছেন, ‘বর্তমানে কুকুর-বিড়ালও নিরাপদ নয়।’
উল্লেখ্য, ৫ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরেই উত্তরা-সহ রাজধানীর একাধিক এলাকায় ডাকাতদের দৌরাত্ম্য বেড়েছিল। নিজেদের জীবন আর সম্পদ পাহারা দিতে হাতে দাঁ-বটি হাতে নৈশ প্রহরীর ভূমিকা পালন করে চলেছিলেন বাসিন্দারা।