নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: শেখ হাসিনা জমানার অবসানের পরেই বাংলাদেশের হিন্দুদের উপরে বেলাগাম সন্ত্রাস চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়ি-ঘর-মন্দিরে চলছে আক্রমণ। পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। এমনকি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয়েছেন বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। এতদিন হিন্দু নির্যাতনের কথা অস্বীকার করলেও মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) ডিগবাজি খেয়ে সংখ্যালঘুদের উপরে বল্গাহীন নিপীড়নের কথা স্বীকার করে নিল মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার। ফরেন সার্ভিস আকাদেমিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস শাখার তরফে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ‘মোল্লা ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণের পরে গত ৮ অগস্ট থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আড়াই মাসে সারা দেশে হিন্দুদের উপরে ৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গড়ে দিনে একটির বেশি হামলা হয়েছে।’ যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, হিন্দুদের উপরে হামলার যে তথ্য ইউনূস সরকার দিয়েছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হামলা হয়েছে।’
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ‘হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তরফে ৮ অগস্ট থেকে ২২ অক্টবর পর্যন্ত সারা দেশে সংখ্যালঘুদের উপরে ৬২টি হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পুজোমণ্ডপ, মন্দির, গির্জা-সহ উপাসনালয়ে ২৬টি হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৮৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুদের বাড়ি-ঘর-ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার দায়ে দায়ের করা মামলায় ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর পুজোমণ্ডপ-সহ ধর্মীয় স্থানে হামলার ২৬ মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ৩৫ জন।’
হিন্দুদের উপরে হামলার ঘটনা শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বীকার করলেও ইউনূসের প্রেস সচিবের দাবি, ধর্মীয় কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণেই হামলার শিকার হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়। যে সব হিন্দুদের বাড়ি-ঘর কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে তাদের সিংহভাগই পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি বিপন্ন হিন্দুদের রক্ষাকর্তা তথা ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির পরে চট্টগ্রাম, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ-সহ একাধিক এলাকায় হিন্দুদের উপরে বেলাগাম হামলা চলছে। তবে ওই হামলার বিষয়ে এদিন সুষ্পষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেননি ইউনূসের প্রেস সচিব। পরে এ বিষয়ে তথ্য দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।