নিজস্ব প্রতিনিধি: অপেক্ষা বছরেরও নয়, কয়েক মাসের। তারপরেই রাজ্যে ভোট উৎসব। কার্যত দুয়ারে দাঁড়িয়ে কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে নন্দীগ্রামে দুটি সমবায় নির্বাচন হল। এই নির্বাচনকে বলা যেতে পারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেমিফাইনাল। তাতে একটি সমবায় আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি, অন্যটিতে উড়েছে ঘাসফুলের পতাকা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই দুটি সমবায়ের ফলাফল বলে দিচ্ছে নন্দীগ্রামে ফের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের প্রাক্তন সদস্যের কাছে হারতে হয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমকে। নন্দীগ্রাম শাসকদলের হাতছাড়া হয়েছে। কিন্তু তার জন্য যে সেখানে উন্নয়ন থেমে থেকেছে তা নয়। ঢালাও সেজে উঠেছে নন্দীগ্রাম। এবারও সেই উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই আগামী ভোটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল।
২০২১ সালের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত হন। সেই সূচনা। তারপর ক্রমেই নন্দীগ্রামে শক্তি বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবির। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ১ পঞ্চায়েত সমিতিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে শেষ পর্যন্ত টস হয়। টসে জিতে সভাপতির পদ পায় বিজেপি। সহ-সভাপতি হয় তৃণমূল। নন্দীগ্রাম ২ পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয় শাসকদলের। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে তৃণমূল এগিয়েছিল অন্তত ২৬০০ ভোটে। নন্দীগ্রাম দুই ব্লকে কিন্তু তারা আবার বিজেপির থেকে প্রায় ১০ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল। ফলে দেখা যায় গত ২৫ মে নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের বিরুলিয়া সমবায় সমিতির নির্বাচনে ১২ টি আসনেই জয়ী হন বিজেপি সমর্থক প্রার্থীরা। ২৭ মে নন্দীগ্রাম এক ব্লকের গড়চক্র বেরা কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন হয়। সেখানে আবার ভারতীয় আসনেই জয়লাভ করে তৃণমূল একই বিধানসভার দুটি সমবায় সমিতির নির্বাচনে দুই ভিন্ন ফল এসেছে। এর থেকেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে যেরকম হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল ২০২৬ এর নির্বাচনেও সেরকমই চিত্র দেখা যাবে। জনতার মনোরঞ্জনে কোন কমতি থাকবে না।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি নন্দীগ্রামের মানুষ তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে। তারা আবার তৃণমূলের দিকে ফিরছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে নন্দীগ্রামে ২২টি নতুন ঢালাই রাস্তার অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উন্নয়নকেই হাতিয়ার করে নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধার করতে চাইছে তৃণমূল। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুজিত কুমার রায় বলেন নন্দীগ্রামে তৃণমূল বিধায়ক না থাকা সত্ত্বেও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে নন্দীগ্রামের জন্য উন্নয়ন খাতে টাকা বরাদ্দ হয়েছে। উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্য সরকার কখনও কোনও আপোষ করে না তা আবারও প্রমাণিত। নন্দীগ্রামে একটি সমবায়ে বিপুল ভোটে আমরা জয় লাভ করেছি। অন্য একটি সমবায়ে আমাদের প্রার্থীরা হয়তো খুব কম ব্যবধানে হেরেছে। বিজেপিকে নিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের যে স্বপ্ন ছিল তা ভঙ্গ হতে শুরু করেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম তৃণমূলের হাতেই আসবে।
বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পালের বক্তব্য নন্দীগ্রামে মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দেয় না এখানকার হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ। গড়চক্রবেড়্যা কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচনে কোন হিন্দু ভোটার ছিল না, তাই ওখানে তৃণমূল জয় পেয়েছে। বিরুলিয়া সমবায় সমিতির নির্বাচন প্রমাণ করে দিয়েছেন নন্দীগ্রামের হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপি আরও বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়লাভ করবে।