নিজস্ব প্রতিনিধি: ফের চোখ রাঙাচ্ছে নিম্নচাপ। শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণাবর্ত পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে। এই নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি বৃদ্ধি করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার সকালে উত্তর-পশ্চিমবঙ্গোসাগরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িষ্যা উপকূলের কিছুটা পূর্বদিকে এই নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে।
হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, মঙ্গলবার এই নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দেশের মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে। তবে এর প্রভাব খুব বেশি না পড়লেও সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নচাপের ঝাপটার কারণে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, নদীয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র থেকে জলীয় বাষ্প ও ঘন মেঘের শাড়ি দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়েও দেশের মূল ভূখণ্ডে ঢুকবে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।
নিম্নচাপের প্রভাবটা কেটে যাওয়ার পর বঙ্গোপসাগরের উত্তর ভাগে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটি বাংলার অনেক কাছে হওয়ায় তার প্রভাবে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল। জুলাই মাসে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটা বেশি হওয়ার পরে অগস্টে তেমনভাবে দেখতে পাওয়া যায়নি। অগস্টের ১৭ তারিখ পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ১৫২ মিলিমিটার। এই মাসে কলকাতায় ঘরে বৃষ্টিপাত হয় ৩৭২.১ মিলিমিটার। অর্থাৎ অর্ধেক শতাংশ বৃষ্টি হয়নি কলকাতায়। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর বাঁকুড়া পুরুলিয়া ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের ১৫ টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ২২ ও ২৩ আগস্ট দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে ও নিম্নচাপের প্রভাব পড়বে। দার্জিলিং কালিম্পং জলপাইগুড়ি কোচবিহার আলিপুরদুয়ারে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সিকিমেও ঝড়ো হাওয়া ও বল ঝড় বজ্র ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ধ্বস নামার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।