নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: মুখে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ বললেও ভারতকে চাপে রাখতে ফের নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে তিনি যেমন ভারতের উপরে বিশাল অঙ্কের শুল্ক চাপিয়েছেন তেমনই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিকে চাপে রাখার কৌশলী পদক্ষেপ করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনী তিন মাসে তিনটি যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুটি সামরিক মহড়া হয়ে গিয়েছে। তৃতীয় সামরিক মহড়া হবে আগামী সেপ্টেম্বরে। বাংলাদেশের মাটিতে নতুন সামরিক ঘাঁটি গড়ার অভিপ্রায় নিয়েই যৌথ মহড়ার নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। গত ১৫ বছর শেখ হাসিনার জমানায় পূর্ব সীমান্ত নিয়ে নিশ্চিত ছিল দিল্লি। কিন্তু এবার পূর্ব সীমান্তও ভারতের সেনাবাহিনীর কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
গত জুলাইয়ের শেষের দিকে বাংলাদেশ ও মার্কিন সেনা (ইউএস আর্মি) যৌথ প্রশিক্ষণ হয় জালালাবাদ সেনা ঘাঁটিতে। ওই যৌথ সামরিক মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টাইগার লাইটনিং’। সূত্রের খবর, কিভাবে শত্রু (পড়ুন ভারত) দেশের সেনাদের মোকাবিলা করতে হবে, সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। যেহেতু পাহাড় ঘেরা উত্তর-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে ভারত আক্রমণ চালানোর দিকে ঝুঁকতে পারে, তাই জালাবাদের মতো পাহাড় ও জঙ্গলঘেরা দুর্গম এলাকাকেই প্রশিক্ষণের জন্য বেছে নেওয়া হয়।
‘টাইগার লাইটনিং’ ছিল দুই দেশের স্থল সেনার মহড়া। এর পরে শুরু হয় দুই দেশের নৌবাহিনীর মহড়া ‘টাইগার শার্ক’। আজ শনিবারই (২ অগস্ট) ওই মহড়া শেষ হয়েছে। যৌথ প্রশিক্ষণ মহড়া যেখানে দুই দেশের বিশেষ বাহিনী যুদ্ধকৌশল অনুশীলন করে। যৌথ মহড়ার বিশেষ আকর্ষণ ছিল উভয় দেশের ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম বা যুদ্ধাস্ত্র। কিভাবে মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো হয়েছে। মহড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এবং বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা একসঙ্গে টহল, লক্ষ্যভেদ অনুশীলন, সাঁতার ও ডুবসাঁতার এবং ক্লোজ কোয়ার্টারস কমব্যাটসহ বিভিন্ন সমন্বিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।
বাংলাদেশ সেনা সদর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এর পরে দুই দেশের বায়ুসেনার যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবে আগামী সেপ্টেম্বরে। ওই যৌথ মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্যাসিফিক অ্যাঞ্জেল’। পাশাপাশি ‘আরকিউ-২১’ কর্মসূচির নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সঙ্গে একত্রে একটি মানববিহীন আকাশযান ব্যবস্থা (ইউএএস) গড়ে তুলছে। যৌথ মহড়া পরিদর্শনের জন্য ঢাকায় ছুটে এসেছিলেন আমেরিকার প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল অ্যাসকট এ উইন্টার। বাংলাদেশে সেনার ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমানের কথায়, ‘ভারতকে এখন আর বন্ধু হিসাবে আমরা মনে করি না। তাই নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেশি করে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’