নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা: সেজেগুজে সংবাদমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে বিমান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে পড়ুয়াদের তাড়া খেলেন মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূসের দুই উপদেষ্টা। পড়ুয়া আর অভিভাবকদের গণধোলাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে কোনও ক্রমে দৌড়ে কলেজের ভিতরে ঢুকে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আবরার। শুধু দুই উপদেষ্টাকেই নয়, হিযবুত তাহরীর জঙ্গি তথা ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলমকেও তাড়া করেছেন পড়ুয়ারা। তিনিও দৌড়ে কলেজের ভিতরে ঢুকে যান। প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তিন জনকেই অবরুদ্ধ করে রেখেছেন পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। উপদেষ্টাদের ঘেরাও করার কারণ জানাতে গিয়ে বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা অভিযোগ করেছেন, ‘সরকার দুর্ঘটনায় তাহতদের সঠিক সংখ্যা আড়াল করছে। অনেক লাশ গায়েব করা হয়েছে।’
গতকাল সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান ওড়ার খানিকক্ষণের মধ্যেই উত্তরার কাছে মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের একটি ভবনের উপরে ভেঙে পড়ে। নিমিষেই আগুন ধরে যায় বিধ্বস্ত বিমানটিতে। অগ্নিদগ্ধ হন স্কুল ও কলেজে হাজির পড়ুয়ারা। পাইলট তৌকির ইসলাম সাগর সহ কমপক্ষে ২৭ জন মারা যান। আহত হন দুই শতাধিকের বেশি। যদিও পড়ুয়া ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ২৭ জন নয়, কমপক্ষে ৫০ জন মারা গিয়েছেন। সরকারের তরফে লাশ গায়েব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল দশটার খানিক বাদে দুর্ঘটনাস্থলে হাজির হন তদারকি সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার। খানিকবাদে পৌঁছন প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনজনকে দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পড়ুয়া ও অভিভাবকরা। তিন জনকে ঘিরে ‘গো-ব্যাক’ শ্লোগান দেন পড়ুয়ারা। কেউ-কেউ সরাসরি আঙুল তুলে জিজ্ঞাসা করেন, দুর্ঘটনা ঘটার ২৪ ঘন্টা বাদে এলেন কেন? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে তিন জনই দৌড়ে কলেজের ভিতরে ঢুকে যান। তাদের পিছু তাড়া করে পড়ুয়া ও অভিভাবকরাও। যদিও পুলিশ ও সেনা সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের রুখে দেন।