নিজস্ব প্রতিনিধি: ইউরোপ সেরা প্যারিস সঁ জঁরমকে (পিএসজি) ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল ইংলিশ প্রিমিয়ার ক্লাব চেলসি। জোড়া গোল করেছেন কোল পালমার। বাকি গোলটি করেছেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ স্ট্রাইকার জোয়াও পেদ্রো। এ নিয়ে তিন বছর বাদে ফের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতল চেলসি।
রবিবার (১৩ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই লুইস এনরিকের দলের আক্রমণ লাইন ভোঁঢ়তা করে দিয়েছিল চেলসি। লা প্যারিসিয়ারদের সুযোগই তৈরি করতে দেয়নি। বরং কোলে পালমার ও এনজো ফার্নান্দেজের যুগলবন্দিতে অকার্যকর হয়ে পড়ে লুইস পিএসজির ডায়নামিক মিডফিল্ড ও ফ্রন্টলাইন। যদিও ম্যাচের ১৬ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল পিএসজির কাছে। ফাবিয়ান রুইস বক্সে চমৎকার পাস বাড়িয়েছিলেন দিজিরে দুয়েকে লক্ষ্য করে। কিন্তু নিজে শট না নিয়ে আশরাফ হাকিমিকে পাস দেওয়ার চেষ্টা করেন দুয়ে। সেই সুযোগে বল বিপন্মুক্ত করেন চেলসির ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়া।দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে দুয়ের জোরাল নিচু শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে ঠেকান চেলসি গোলর্ক্ষক স্যানচেস। এর পর ২২ মিনিটে গোলরক্ষকের লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে মালো গিস্তোর শট রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর বল পান কোল পালমার। বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে চেলসিকে এগিয়ে দেন ২৩ বছর বয়সী ইংলিশ ফরোয়ার্ড। আট মিনিট পর দুর্দান্ত গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পালমার। ডিফেন্ডার লিভাই কলউইলের উঁচু করে বাড়ানো বল ধরে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিচু শটে ফের পিএসজির জাল কাঁপান। পিএসজির কফিনে শেষ পেরেক পোঁতেন জোয়াও পেদ্রো। জোড়া গোলকারী পালমার বক্সের মধ্যে পাস বাড়ান। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়ে পিএসজির জোয়াও নেভেসের হেড ঝাঁপিয়ে প্রতিহত করেন চেলসি গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় চেলসি।
গোল শোধের জন্য দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে ঝাঁপায় পিএসজি। ৫৩ মিনিটের মাথায় উসমান দেম্বলের শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন চেলসির গোলরক্ষক সানচেস। বলা যায় দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেছেন। ৬০ মিনিটে ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া ভিতিনিয়ার জোরাল শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন চেলসির গোলরক্ষক। ৬৭ মিনিটে জোয়াও পেদ্রোর বদলি হিসাবে নামা লিয়াম ডেলাপের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন পিএসজি গোলরক্ষক জানলুইজি দোন্নারুম্মা। ৮০ মিনিটে ডেলাপের আরেকটি প্রচেষ্টা রুখে দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় পিএসজি। পেছন থেকে কুকুরেইয়ার চুল টেনে ধরায় ভিএআরের সাহায্যে পিএসজি মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেসকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।শেষ বাঁশি বাজার পর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের কয়েক জন। জোয়াও পেদ্রোর মুখে আঘাত করেন পিএসজি কোচ এনরিকে।