নিজস্ব প্রতিনিধি, বাসন্তি : পাসপোর্ট জালিয়াতিতে এবার নাম জড়াল বাসন্তির এক নার্সিংহোমের। এইখান থেকেই ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র তৈরি করা হত বলে অভিযোগ। বিরাটি, কাটোয়ার পর এবার বাসন্তির নাম জড়াল ভুয়ো পাসপোর্টের ঘটনায়।
জানা গিয়েছে, বাসন্তিতে অবস্থিত একটি নার্সিংহোমে ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট বানানো হত। সেটি পরে সরকারি ওয়েবসাইটেও আপলোড করে দেওয়া হত। সেই নথি দেখিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করা কোনো ব্যাপারই না। এই ঘটনায় ওই নার্সিংহোমের মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে প্রমাণ হিসেবে আবেদনকারী ভারতীয় নাগরিক হতে হয়। তারজন্য বার্থ সার্টিফিকেট জমা করতে হয়। কিন্তু সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসবায় পাঠানখালি গ্রামপঞ্চায়েত থেকে ভুয়ো পাসপোর্টের খোঁজ মিলেছে। কিন্তু কীভাবে সেগুলো বানানো হয়েছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই তদন্তে নেমে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় জড়িত পাঠানখালি গ্রামপঞ্চায়েতের একটি নার্সিং হোম। সেখানের ইস্যু করা জন্মের ভুয়ো শংসাপত্রে অনেকেই পাসপোর্ট করেছেন।
কীভাবে সম্ভব? জানা যায়, নার্সিংহোম থেকে তৈরি হওয়া ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেটের নথি তৈরি হওয়ার পর সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করা হত সেটি। ভুয়ো নথি মুহূর্তে বৈধতা পেয়ে যেত। তা দিয়েই তৈরি হত পাসপোর্ট। এই ঘটনায় তদন্তকারীদের নজরে ছিলেন পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করতেন গৌতম সর্দার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই সামনে আসে নার্সিংহোমের অন্যতম মালিক রহমতুল্লা মোল্লার নাম। ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
রামচন্দ্রখালির সোনাখালিতে অবস্থিত এই নার্সিংহোমটি তিন–চার বছর আগে চালু হয়েছে। কিন্তু যাঁদের পাসপোর্টের আবেদন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তাঁদের বয়স ৩০–৪০ বছর। সরকারি ওয়েবসাইটে কী করে সেগুলো আপলোড হচ্ছে, নার্সিংহোমের কোনও রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।