আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রত্যাঘাত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত হামলা থামাবে না ইরান। ওমান ও কাতারকে এই কথা জানিয়ে দিয়েছে তারা। ইরান এবং ইজরায়েলের একে অপরের ওপর হামলার জেরে আকাশ ছেয়ে গিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রে। চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষণে ক্ষণে বেজে উঠছে সাইরেন। এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী ওমান ও কারতার। কিন্তু প্রত্যাঘাতে সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনও রকম আলোচনায় বসতে নারাজ ইরান। ইরানের এই অবস্থানের কারণে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইজরায়েল ক্রমাগত হামলা চালিয়েছে। এখনো চলছে। ইরানিরা প্রত্যাঘাত চায়। প্রত্যাঘাত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সমঝোতা নয়। প্রত্যাঘাত সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই আলোচনায় বসার কথা ভাবা হবে। ইরান-ইজরায়েল সঙ্ঘাত পরমাণু যুদ্ধে গড়াতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধংদেহী মনোভাবেই সিঁদূরে মেঘ দেখছে পরমাণু শক্তিধর দেশগুলো। ইরান এবং ইজরায়েলের মধ্যে লড়াই যাতে পরমাণু যুদ্ধের চেহারা না নেয় তা নিশ্চিত করতে আসরে নেমেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। আগামিকাল সোমবারই অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় সংস্থার জরুরি বৈঠক বসছে। রাশিয়া ও ভেনজুয়েলার বিশেষ অনুরোধেই ওই বৈঠক ডাকা হয়েছে
গত শুক্রবার থেকে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র সহ বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য কর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। ওই হামলায় ইরানের সেনাপ্রধান, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের প্রধান সহ ২০ শীর্ষ সামরিক কম্যান্ডার প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি ১২ জন বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানীও প্রাণ হারিয়েছেন। ওই আক্রমণের যোগ্য জবাব দিতে ইজরায়েলের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরানও। পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশের শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইজরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র। যদিও তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়নি বল দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান। যদিও তাতে আশ্বস্ত হতে পারেনি রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা।