নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বর্ষা নির্ধারিত সময়ের আগে দেশে ঢুকে পড়লেও গরম থেকে রেহাই নেই। প্রখর রৌদ্রের তাপে বিপর্যস্ত জন জীবন। বিশেষ করে, যাঁরা নিত্যযাত্রী, যাদের প্রতিদিন বাস-ট্রেনে যাতায়াত করতে হয় তাঁদের পক্ষে গরম সহ্য করা খুবই অসহনীয়। সেখানেই এক পশলা বৃষ্টি যেন ব্যপক খুশি দেয়। মন প্রাণ জুড়িয়ে দেয়। প্রচন্ড রোদ থেকে বাঁচতে মানুষ এখন ছাতা, জল, ঘরে ঢুকলেই এসি ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছে না। কিন্তু আর দিন তিনেকের মধ্যে জাতীয় রাজধানীর মানুষরা এটুকু স্বস্তিও পাবে না। কারণ আগামী তিনদিনের মধ্যে NCR দিল্লির তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছুঁতে চলেছে।
যাতে কিনা তাপদাহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে দিল্লি-NCR-এর বাসিন্দারা। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানাচ্ছে, আগামী তিন দিন দিল্লির তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪৩-৪৫ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২৬-২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস মধ্যে আনাগোনা করবে। আজ ৯ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বাড়বে। বাতাসের গতিবেগ ২০-৩০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত থাকবে। পাশাপাশি ধুলো ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আইএমডি কমলা সতর্কতাও জারি করেছে। ১২ জুন থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, হালকা বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর ৯-১১ জুনের মধ্যে কমলা সতর্কতা জারি করেছে। এই সময়ের মধ্যে, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রচণ্ড গরমের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়তে পারে, তাই বয়স্ক, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়াও, আইএমডি ১২-১৫ জুন পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। এই সময়কালে বজ্রপাতের সঙ্গে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে, ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ১৩-১৫ জুন ৫০-৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে বাতাসের গতিবেগ সহ হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, সেই কারণে তাপদাহ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেতে পারেন। এই প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, ‘তাপমাত্রা এখন বেশি। যদি আমরা উত্তর ভারতের কথা বলি, তাহলে গতকাল রাজস্থানের গঙ্গানগরে ৪৭ ডিগ্রিরও বেশি তাপমাত্রা ছিল। অন্যদিকে সমগ্র উত্তর ভারতে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি একই রকম ছিল। আগামী দিনগুলিতে তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল। আজ তাপমাত্রা ৪৩ থেকে ৪৫ পর্যন্ত যাবে। তাই জনগণকে রোদে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে। এছাড়াও, বাইরে বেরোলে প্রচুর পরিমাণে জল খান। এবং হালকা পোশাক পরুন।’