নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এক ঠান্ডায় রক্ষে নেই। দোসর ঘন কুয়াশা। আর দুইয়ের সাঁড়াশি আক্রমণে বিপর্যস্ত রাজধানী দিল্লি-সহ গোটা উত্তর ভারতের জনজীবন। ইতিমধ্যেই হরিয়ানায় শৈত্যপ্রবাহের বলি হয়েছেন চার জন। শনিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিমান ও ট্রেন পরিষেবা। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ একাধিক বিমানবন্দরের দৃশ্যমানতা শূন্যতে নেমেছে। ফলে ২৫০টির বেশি বিমান উড়ান হয় বাতিল হয়েছে, না হলে দেরিতে ছাড়তে চলেছে। বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। উত্তর ভারতের একাধিক রুটের বিভিন্ন ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই কুয়াশার ঘন চাদরে ঢেকেছিল রাজধানী দিল্লি-সহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্য। গতকাল শুক্রবারই (৩ জানুয়ারি) মৌসম ভবনের তরফে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। গভীর রাত থেকেই কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকা। কুয়াশার শিশির যেন বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে ঝরে পড়ছিল। শীতের মরণ কামড়ে সকালে ঘরবন্দি হয়েই ছিলেন সাধারণ মানুষ। অনেক জায়গাতেই আগুন জ্বালিয়ে তাপ পোহাতে দেখা গিয়েছে। কুয়াশার কারণে আশেপাশের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।
তীব্র কুয়াশার কারণে হরিয়ানার হিসারে এদিন ভোরেই এক পথ দুর্ঘটনায় ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বেলা ১০টা পর্যন্ত কুয়াশার আড়ালেই ঢেকেছিল সূর্য। কুয়াশার কারণে দিল্লি-সহ একাধিক বিমানবন্দরের দৃশ্যমানতা শূন্যে নেমে গিয়েছিল। ফলে নির্ধারিত সমযসূচি মেনে উড়ান পরিষেবা চালানো সম্ভব হয়নি। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ৩০০টির বেশি বিমান ছাড়তে দেরি হয়েছে। তাছাড়া ৬০টি উড়ান বাতিল করা হয়েছে। ১৫টি বিমানের উড়ান ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিমান পরিষেবার মতোই বিপর্যস্ত ট্রেন পরিষেবা। কুয়াশার কারণে একাধিক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে কয়েক ঘন্টা বিলম্ব ঘটছে। বিভিন্ন জাতীয় সড়কেও পণ্য ও যাত্রিবাহি গাড়ির দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গিয়েছে।