নিজস্ব প্রতিনিধি, লন্ডন: আগামিকাল সোমবার (৯ জুন) চারদিনের ব্রিটেন সফরে আসছেন বাংলাদেশের তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোল্লা মুহাম্মদ ইউনূস। আর ওই সফরের সময়েই সাক্ষাতের সময় চেয়ে তদারকি সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের দেশত্যাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনঝি টিউলিপ সিদ্দিক। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের তোলা অভিযোগ নিয়ে নালিশ জানাতেই টিউলিপ সাক্ষাতের সময় চেয়েছেন।
রবিবার (৮ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্রিটেন সফরকালে ইউনূসের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করে চিঠি দিয়েছেন শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে তথা ব্রিটেনের প্রাক্তন মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করা একজন ব্রিটিশ নাগরিক। গত এক দশক ধরে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট থেকে সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বাংলাদেশের প্রতি আবেগ থাকলেও আমি সেখানে জন্মাইনি, বসবাস করি না এবং কোনও ব্যবসায়িক স্বার্থও নেই। অথচ বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ এনে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। যা আমার ভাবমূর্তি কলুষিত করেছে। আমার গগায়ে দুর্নীতিবাজের তকমা সাঁটিয়েছে। লন্ডন থেকে আমার আইনজীবীরা দুদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও জবাব মেলেনি। বরং দুদক ঢাকা শহরের একটি ‘অজানা ঠিকানায়’ নথিপত্র পাঠাচ্ছে। এই তথাকথিত তদন্তের প্রতিটি ধাপ সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করা হচ্ছে, অথচ আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কোনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ অভিযোগ এবং তা ঘিরে তৈরি হওয়া ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর করতেই আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
গত বছর ৫ অগস্ট পাকিস্তানপন্থী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে দিল্লি আশ্রয় নেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তার পর থেকেই বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নামগন্ধ মুছে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে ইউনূস সরকার। শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর বোন শেখ রেহানা, বোনঝি টিউলিপ সিদ্দিক, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। সবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাসী শেখ হাসিনার জমানায় অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছেন। টিউলিপ ও তার মা শেখ রেহানা প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় ৭ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি প্লট নিয়েছেন। যদিও টিউলিপ ও তার আইনজীবীরা এই অভিযোগগুলো ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। গত বছর টিউলিপের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল লরি ম্যাগনেসের নেতৃবাধীন তদন্ত কমিটি। যদিও নিজে থেকেই মন্ত্রিত্বে ইস্তফা দিয়েছিলেন টিউলিপ। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘এই বিতর্ক লেবার পার্টি নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠতে পারে।’