নিজস্ব প্রতিনিধি, নিউ চণ্ডীগড়: আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুল্লানপুরের মহারাজা যাদবেন্দ্র সিংহ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে পঞ্জাব কিংস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আজকের ম্যাচে যে দল জিতবে, সেই দলই ফাইনালে ওঠার ছাড়পত্র পাবে। ইতিমধ্যেই টস হয়ে গিয়েছে। টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিথয়েছেন আরসিবির অধিনায়ক রজত পাতিদার।
এই ম্যাচে সবার নজর থাকবে আরসিবির বিরাট কোহলি এবং পঞ্জাবের শ্রেয়স আইয়ারের দিকে। বিরাট কোহলি এই মরসুমে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তিনি ১৪টি ম্যাচে ৬০৮ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৪৭.৯১। তিনি তার ব্যাটিংয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়েছেন। অন্যদিকে শ্রেয়স আইয়ারও পিছিয়ে নেই। তিনি ১৪ ইনিংসে ৫১৪ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৭১.৯০, যা এই মরসুমে শুধু নিকোলাস পুরান (স্ট্রাইক রেট ১৯৬.২৫) তার থেকে এগিয়ে।
কিন্তু মুল্লানপুর পিচে শ্রেয়স এই মরসুমে খুব একটা ভাল করতে পারেননি। তিনি এখানে ৪ ইনিংসে মাত্র ২৫ রান করেছেন। এছাড়া আরসিবির বোলারদের বিরুদ্ধে তার রেকর্ডও তেমন ভালো নয়। জশ হেজলউড তাকে ১৯ বলে ৩ বার আউট করেছেন, মাত্র ৯ রান দিয়ে। ভুবনেশ্বর কুমারও শ্রেয়সকে ৩ বার আউট করেছেন, ৫০ বলে ৪৫ রান দিয়ে। এমনকি ক্রুণাল পাণ্ড্যর বিরুদ্ধেও পঞ্জাব অধিনায়ক সুবিধা করতে পারেননি। তিনি ক্রুণালের বিরুদ্ধে ৪৮ বলে ৪১ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট মাত্র ৮৫.৪১। তাই এই ম্যাচে তার লড়াই দেখার মতো হবে।
বিরাট কোহলির জন্য মুল্লানপুর পিচ বেশ সুবিধাজনক হতে পারে। গত ম্যাচে এই মাঠে তিনি ৫৪ বলে অপরাজিত ৭৩ রান করে প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ হয়েছিলেন। এবার এই দুই তারকার মধ্যে কে এগিয়ে থাকবে?
পঞ্জাবের প্রিয়াংশ আর্য এই মরসুমে দুর্দান্ত খেলছেন। তিনি ৪২৪ রান করেছেন, গড় ৩০.২৯ এবং স্ট্রাইক রেট ১৮৩.৫৫। তার ৪৮টি চার এবং ২৪টি ছক্কা প্রমাণ করে তার ব্যাটিং কতটা বিধ্বংসী। প্রভসিমরন সিংহ এবং জস ইংলিস ভাল পারফরমেন্স করতে পারেন। মিডল অর্ডারে নেহাল ওয়াধেরা, শশাঙ্ক সিংহ, এবং মার্কাস স্টোইনিস দলকে শক্তি যোগাচ্ছেন। বোলিংয়ে আর্শদীপ সিংহ ও যুজবেন্দ্র চহাল এবং কাইল জেমিসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
আরসিবির ওপেনার ফিল সল্ট এবার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাকে আর্শদীপ সিংহের সামনে সাবধান থাকতে হবে, কারণ আর্শদীপ তাকে ৩২ বলে ৪ বার আউট করেছেন, মাত্র ২৫ রান দিয়ে। ময়ঙ্ক আগরওয়াল ও যুজবেন্দ্র চহালের লড়াই দেখার মতো হবে। চহাল তাকে ৬ বার আউট করেছেন, গড় মাত্র ১২.০০ (৪৫ বলে ৭২ রান, স্ট্রাইক রেট ১৬০.০০ এবং ৫টি ছক্কা)। রজত পাতিদার, জিতেশ শর্মা, এবং লিয়াম লিভিংস্টোন ব্যাটিংয়ে শক্তি যোগাবেন, আর জশ হেজলউড, ভুবনেশ্বর কুমার, এবং যশ দয়াল বোলিংয়ে দলের ভরসা।
পিচ রিপোর্ট
মুল্লানপুরের পিচ এই মরসুমে বেশ বৈচিত্র্যময়। প্রথম দুটি ম্যাচে এখানে তিনবার ২০০ রানের বেশি স্কোর হয়েছে, মানে পিচ ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি। কিন্তু পরের দুটি ম্যাচে স্কোর ছিল ১১১ অল আউট, ৯৫ অল আউট, এবং ১৫৭/৬, যা পিচের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এই মাঠে গড় প্রথম ইনিংসের স্কোর ১৬৯। বড় স্কোয়ার বাউন্ডারির কারণে রান করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। পিচ শুরুতে ব্যাটসম্যানদের সাহায্য করে, তবে পরে স্পিনাররা কার্যকর হয়ে ওঠে।
অতীতে মুখোমুখি সাক্ষাতে অবশ্য দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দুই দল ৩৫ বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। পঞ্জাব জিতেছে ১৮ বার। আর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স জিতেছে ১৭ বার। আজকের ম্যাচেও কেউ কাউকে বিনা যুদ্ধে সূচ্যগ্র জমি যে ছাড়বে না তা বলাই যেতে পারে।
পঞ্জাব কিংস: প্রিয়াংশ আর্য, প্রভসিমরন সিংহ, জস ইংলিস (উইকেটরক্ষক), শ্রেয়স আইয়ার (অধিনায়ক), নেহাল ওয়াধেরা, শশাঙ্ক সিংহ, মার্কাস স্টোইনিস, আজমতুল্লাহ ওমরজাই, কাইল জেমিসন, হরপ্রীত ব্রার, আর্শদীপ সিং। ইমপ্যাক্ট সাব: যুজবেন্দ্র চহাল।
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু: বিরাট কোহলি, ফিল সল্ট, ময়ঙ্ক আগরওয়াল, রজত পাতিদার (অধিনায়ক), জিতেশ শর্মা (উইকেটরক্ষক), ক্রুণাল পাণ্ড্য, লিয়াম লিভিংস্টোন, রোমারিও শেফার্ড, ভুবনেশ্বর কুমার, যশ দয়াল, জশ হেজলউড। ইমপ্যাক্ট সাব: সুয়াশ শর্মা।