নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: রথযাত্রা লোকারণ্য মহা ধুমধাম- বাংলায় রথ নিয়ে আনন্দের অন্ত নেই। রথ মানেই বৃষ্টি, কাদার পেরিয়ে রথের মেলায় যাওয়া, জিলিপি, পাঁপড় ভাজা খাওয়া। বাংলা সাহিত্যেও রথের স্থান অনন্য। রথযাত্রা আর দুই নর-নারীর প্রেম নিয়ে ‘রাধারানি’ নামে আস্ত একখানা উপন্যাস লিখে ফেলেছিলেন সাহিত্যসম্রাট। এতদিন পর্যন্ত রথযাত্রা দেখতে মানুষ ভিড় জমাতো পুরীতে। সেখানে জগন্নাথ ধামে তো দেবতা স্বয়ং অধিষ্ঠিত। তাই রথযাত্রার সময় থিক থিক করত কালো কালো মাথা। এবার থেকে পাল্টাতে চলেছে চিত্রটা। দিঘায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হয়েছে জগন্নাথ মন্দিরের। চলতি বছর সেখানে হবে রথযাত্রা।
গত ৩০ এপ্রিল অক্ষয় তৃতীয়ার পূণ্যলগ্নে দ্বারোদ্ঘাটন হয়েছে জগন্নাথ মন্দিরের। এই বছর প্রত্থম বারের জন্য দিঘা মেতে উঠবে রথযাত্রার আনন্দে। এখন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে তার প্রস্তুতি। আগামী ২৭ জুন দেশ জুড়ে পালিত হবে রথযাত্রা। কলকাতার ইসকন এবং দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের ট্রাস্টি কমিটি জানিয়েছে, ২৭ জুন রথের দিন দিঘায় থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই উদ্বোধন করবেন রথযাত্রার।
এ’বছর দিঘায় রথযাত্রা জন্য বিপুল উন্মাদনা রয়েছে। তাই আশা করা হচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হবে। সেই হিসাবে নিরাপত্তাও নিশ্চিদ্র করতে চাইছে প্রশাসন। আগামী শুক্রবার মন্দিরের পরিচালন কমিটি রথযাত্রার আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক বৈঠকে বসবে। রাজ্য তথা দেশ তো বটেই, রথযাত্রায় অংশ নিতে বিদেশ থেকে বঙ্গে আসবেন বহু জগন্নাথ ভক্ত। উদ্বোধনের পর থেকে প্রায় ২৫ লক্ষের বেশি ভক্ত জগন্নাথ দর্শনে দিঘায় এসেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর থেকে প্রতি বছর কলকাতায় ইসকনের রথযাত্রার উদ্বোধন করেন মমতা। এই বছর দিঘাতেই থাকবেন তিনি। মন্দিরের ট্রাস্টি কমিটির অন্যতম সদস্য রাধারমন দাস জানিয়েছেন রথের দিন সকাল ১১টায় ‘পাহান্ডি বিজয়’-এর আয়োজন হবে। দুপুর ১টায় উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী সোনার ঝাঁটা দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করবেন।
ইসকনের নিয়ম অনুসারে শাস্ত্রীয় বিধি মেনে রথযাত্রা হবে। রাধারমন দাস জানিয়েছেন, দীঘার জগন্নাথ ধাম মন্দির থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি ছোট জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। সেখানেই পাশে আরও একটি মন্দির বানানো হচ্ছে। সেটি হবে মাসির বাড়ি। ১১ জুন জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। ১২ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত শাস্ত্রীয় বিধি মেনেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অন্তরালে থাকবেন। সনাতন ধর্মে বলা হয় প্রচুর স্নানের ফলে ওই সময় তাঁদের জ্বর আসে। এই ক’দিন ভক্তদের দর্শন দেবেন না তিন ভাই বোন। ২৬ জুন খুলে যাবে জগন্নাথ মন্দিরের দ্বার। ২৭ জুন রথযাত্রা পালিত হওয়ার পরে জগন্নাথ,বলভদ্র ও সুভদ্রা চলে যাবেন মাসি গুন্ডিচা দেবীর বাড়ি।
৫ জুলাই উল্টোরথের দিন ফের মন্দিরে আসবেন তিনজন। কিন্তু মন্দিরে প্রবেশ করবেন না। কারণ এই সময় তো শ্রীলক্ষ্মীর মান হয়েছে। তাই তিনি জগন্নাথকে ঘোরে ঢুকতে দেন না। ৬ এবং ৭ জুলাই মন্দিরের বাইরে রথ থেকেই ভক্তদের দর্শন দেবেন ভগবান। ৮ জুলাই লক্ষ্মীর মান ভাঙলে দাদা ও বোনের সঙ্গে পুনরায় মন্দিরে প্রবেশ করবেন জগন্নাথ।