নিজস্ব প্রতিনিধি: চারিদিক যখন ঢেকেছে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে, তখন বড্ড বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দেওয়া বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার (২৬ মে) ছিল বিদ্রোহী কবির জন্মজয়ন্তী। আর ওই জন্মজয়ন্তীতে কাজী নজরুল ইসলামকে শ্রদ্ধা জানাতে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত ‘নজরুলজয়ন্তীতে’ আচমকাই উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী কবির লেখা ‘নয়ন ভরা জল গো…’ গেয়ে শ্রদ্ধাও জানান। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে গানে গলা মেলান তথ্য ও সংস্কৃতি ন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনও।
গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নজরুলজয়ন্তীর অনুষ্ঠান হতো নিউটাউনের নজরুল তীর্থ প্রেক্ষাগৃহে। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নজরুল তীর্থ প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি রবীন্দ্রসদনেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন-সহ গায়ক রূপঙ্কর বাগচী, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, মনোময় ভট্টাচার্যেরা। ছিলেন নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ও। আচমকাই নবান্ন থেকে কালীঘাটের বাড়িতে ফেরার সময়ে রবীন্দ্রসদনে ঢুঁ মারেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে দেখে সবাই খানিকটা বিস্মিত হয়ে যান।
মুখ্যমন্ত্রী যখন মঞ্চে ওঠা মাত্রই তাঁকে গান গাওয়ার অনুরোধ জানান মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। প্রথিতযশা শিল্পীদের সামনে প্রথমে গান গাইতে রাজি হননি মমতা। শেষ পর্যন্ত সবার অনুরোধে গান ধরেন। তবে গান ধরার আগেই ‘ভুল-ত্রুটি’ নিয়ে আগাম ক্ষমা চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে কাজের চাপে গানের চর্চা করার সময় যে পান না তার উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘আমার চর্চাই নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফাইল দেখতে দেখতে আর বকবক করতে করতেই সময় চলে যায়!আমার কাছে কিন্তু কোনও কাগজ নেই। তাই কথার ভুল হলে কেউ ধরবেন না।’ এর পর মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে গান শুরু করার নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে গায়ক তথা রাজনীতিবিদ ইন্দ্রনীল শুরু করেন, ‘‘নয়ন ভরা জল গো তোমার/ আঁচল ভরা ফুল’। দ্বিতীয় লাইনে পৌঁছতেই সতীর্থ মন্ত্রীর ভুল ধরিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হয়নি… তুমি ভুল সুরে গাইছ।’ এর পর প্রথম থেকে গানটি শুরু করেন তিনি।